০১ জানুয়ারি, ২০১৭ ২০:০৫
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ওটি এসিস্ট্যান্ট (অপারেশন থিয়েটার সহকারি) পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সিরাজুল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবককে আটক করেছে এলাকাবাসী।
রোববার (১ জানুয়ারি) উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের পূর্ব তালিমপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। আটককৃত সিরাজুল ইসলাম পাবনা জেলার সাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা তুরাব আলীর ছেলে।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রতারক সিরাজুল ইসলামকে তার এক আত্মীয় মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সিরাজুল ইসলাম নামে কেউ বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ওটি এসিস্ট্যান্ট নেই বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের পূর্ব তালিমপুর গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়ী গিয়ে তার কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফির কথা বলে ৫ শত টাকা হাতিয়ে নেয়। এর আগে সে ঐদিন সকালে দাসেরবাজার ইউনিয়নের বাগীরপার গ্রামের আরতি রানী মালাকারের কাছ থেকে সাহায্য দেওয়ার নামে রেজিস্ট্রেশন ফির কথা বলে নগদ ৫ শত টাকা ও জন্ম সনদের মূল কপি নেয়। একইভাবে ওই গ্রামের শ্রীমতি রানী, লক্ষী রানী, জনতি রানী, লক্ষী রানীসহ কয়েকজনের কাছ থেকেও সে টাকা হাতিয়ে নেয়।
এদিকে দুপুরে পূর্ব তালিমপুর গ্রামে টাকা আদায়কালে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা প্রতারক সিরাজুলকে আটক করে সাবেক ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন, শিক্ষক শামিম আহমদ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মতিউর রহমানের কাছে নিয়ে যান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার লোকজন আটককৃত যুবক সিরাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
পরে সাবেক ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিনসহ এলাকার লোকজন আটককৃত যুবক সিরাজুল ইসলামকে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ দাস নান্টু ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাসনার কাছে নিয়ে যান। সেখানে সিরাজুল ইসলাম প্রতারণার কথা স্বীকার করে। সন্ধ্যায় সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলায় টিএমএসএস এনজিওতে কর্মরত মোস্তাফিজুর রহমান নামে প্রতারক সিরাজুলের এক আত্মীয় এসে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন।
এদিকে গত বছর দাসেরবাজার ও তালিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এনজিও সংস্থার কর্মী পরিচয়ে একটি চক্র দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টিউবওয়েল, টিন, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন সাহায্যের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আটককৃত সিরাজুল এই চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
আটককৃত সিরাজুল ইসলাম বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ওটি এসিস্ট্যান্ট কি না জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে, ‘হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুল কাদের পরিচয় দিয়ে একজন জানান, সিরাজুল ইসলাম নামে তাদের কোন ওটি এসিস্ট্যান্ট নেই। এ নামে তারা কাউকে চিনেন না।’
এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ দাস নান্টু বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ওটি এসিস্ট্যান্ট পরিচয়ে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘ভবিষ্যতে সে প্রতারণা করবে না মর্মে প্রতারক সিরাজুলের এক আত্মীয় তাকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছেন।’
আপনার মন্তব্য