২৫ মার্চ, ২০১৭ ১৫:১৭
দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অপারেশন টোয়াইলাইট চলাকালে জঙ্গিদের সঙ্গে সেনা সদস্যদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সেনাদের লক্ষ্য করে জঙ্গিরা গুলি ছুঁড়েছে।
গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে আতিয়া মহল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এ ধোঁয়া গোলাগুলির কারণে, নাকি ভেতর থেকে কোন কিছু বিস্ফোরণের কারণে ঘটেছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায় নি।
এদিকে, বেলা সোয়া দুইটা দিকে আতিয়া মহলে বিকট শব্দে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। এর পর পরই এক সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় ভেতর থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়। এর মিনিট দশেক পর আরেক সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় বের করে নিয়ে আসেন মেডিকেল কোরের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অপারেশন টোয়াইলাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে আতিয়া মহল ঘিরে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার ঢাকা থেকে সোয়াট এসে যোগ দেয়, এরপর যোগ দেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পাঠানপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত পাঁচতলা ও চারতলাবিশিষ্ট দুটি ভবনের নাম আতিয়া মহল। সিলেট নগরীর আতিয়া ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির বান্দরঘাটের (বন্দরঘাট) বাসিন্দা উস্তার মিয়া।
এই বাড়িতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে এমন সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাত ২ টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর পুলিশ, সোয়াট ও সেনাসদস্যরা বাড়িটিকে ঘিরে রাখে। এসময় হ্যান্ডমাইকে করে বারবার সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। তবে এতে সাড়া মেলেনি। অবশেষে বাড়িটি ঘিরে রাখার প্রায় ত্রিশ ঘণ্টা পর চূড়ান্ত অভিযানে নামে সেনা সদস্যরা।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে আতিয়া মহলের অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা হবে। পরে জঙ্গিদের ভবনের বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
ভবন মালিক জানিয়েছেন, পাঁচ তলা ভবনটিতে ৩০ টি ফ্ল্যাটে মোট ২৮ টি পরিবার ভাড়া থাকেন।
এই ভবনের নিচ তলার একটি ফ্ল্যাট গত জানুয়ারি মাসে প্রাণ কোম্পানির অডিট অফিসার পরিচয়ে কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম দম্পতি। ওই ফ্ল্যাটটিকে ঘিরেই চলছে তেত্রিশ ঘণ্টা ধরে অভিযান।
আপনার মন্তব্য