নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ মার্চ, ২০১৭ ১৯:১৬

আতিয়া মহলে অভিযান চলবে, জানালো সেনাবাহিনী

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে অপারেশন টোয়াইলাইট অব্যাহত রয়েছে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পরে সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এ তথ্য জানান। এসময় তিনি জানান, ‘জঙ্গি আস্তানা’ আতিয়া মহলের ভেতরে বেশ কয়েকজন জঙ্গি রয়েছে। ৭৮ জন জিম্মি ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। জঙ্গিরা ১২টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

আজ (শনিবার) সকাল ৮টার দিকে সেনা কমান্ডোরা সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে 'টোয়াইলাইট' (গোধূলি) নামের ওই অভিযান শুরু করেন। সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের লে. কর্ণেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।

ভেতরে জঙ্গিদের অবস্থান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অভিযান এখনও চলছে।

রাতেও অভিযান চলবে কি না কিংবা আর কতক্ষণ ধরে অভিযান চলতে পারে- সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি সেনা কর্মকর্তা ফখরুল।

প্রাথমিকভাবে জিম্মিদের উদ্ধারকে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

“এক্ষেত্রে আমরা সফল হয়েছি। ৭৮ জনকে বের করে আনতে পেরেছি।”

ফখরুল আহসানের ব্রিফিংয়ের পর ৩০ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও ২১টি শিশু বেরিয়ে আসেন; যারা বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নয় ঘণ্টার বেশি সময় ছিলেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঘিরে রাখা ওই এলাকায় একই মালিকের চারতলা ও পাঁচতলা দুটির বাড়ি থেকে এই জিম্মিদের দুপুরে উদ্ধারের পর কাছের একটি ভবনে জড়ো করে রাখা হয়েছিল।

রিগেডিয়ার জেনোরেল ফখরুল বলেন, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ঘটনাটি দেখে সোয়াটকে ডেকেছিল, সোয়াট এসে দেখে এই অভিযান চালানো তাদের পক্ষে সম্ভবপর নয়। তখন সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়।

সোয়াট শুরুতে এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’। কিন্তু সেনাবাহিনী নেতৃত্ব নেওয়ার পর অভিযানের নাম বদলে হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পাঠানপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত পাঁচতলা ও চারতলাবিশিষ্ট দুটি ভবনের নাম আতিয়া মহল। সিলেট নগরীর আতিয়া ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির বান্দরঘাটের (বন্দরঘাট) বাসিন্দা উস্তার মিয়া।

এই বাড়িতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে এমন সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাত ২ টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর পুলিশ, সোয়াট ও সেনাসদস্যরা বাড়িটিকে ঘিরে রাখে। এসময় হ্যান্ড মাইকে করে বারবার সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের আহ্বান জানানো হয়। তবে এতে সাড়া মিলেনি। অবশেষে বাড়িটি ঘিরে রাখার প্রায় ত্রিশ ঘন্টা পর চুড়ান্ত অভিযানে নামে সেনা সদস্যরা।

অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে আতিয়া মহলের অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা হবে। পরে জঙ্গিদের ভবনের বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।

ভবন মালিক উস্তার মিয়া জানিয়েছেন, পাঁচতলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে মোট ২৮টি পরিবার ভাড়া থাকেন।

এই ভবনের নিচ তলার একটি ফ্ল্যাট গত জানুয়ারি মাসে প্রাণ কোম্পানির অডিট অফিসার পরিচয়ে কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম দম্পত্তি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত