২৫ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫৪
বৃহস্পতিবার রাত থেকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলে আটক ছিলেন ২৮ পরিবারের ৭৮ ব্যক্তি। প্রায় দুই দিন পর শনিবার দুপুরে জঙ্গিদের আস্তানা ঘেরা ওই ভবন থেকে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসে সেনাবাহিনী।
সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া বাসিন্দারা কথা বলেন গণমাধ্যমের সাথে। সবার চোখেমুখেই আতঙ্কের ছাপ। তবু বন্দিদশা থেকে ফিরে আসার স্বস্তি সবার মুখে। এই ফিরে আসাকে 'নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার' সাথে তুলনা করলেন তাদের অনেকে।
শনিবার সকাল ৯টায় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরুর পর ওই জঙ্গি আস্তানায় জিম্মি হয়ে পড়া ৭৮ জনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে সেনাবাহিনী; তবে এখনও শেষ হয়নি অভিযান।
চারতলা ও পাঁচতলা দুই ভবন থেকে উদ্ধার ৭৮ জনের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও ২১টি শিশু রয়েছে।
তাদের উদ্ধারের পর পাশের একটি ভবনে দিনভর নিরাপদে রাখার পর সন্ধ্যায় তাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলার সুযোগ করে দেয় সেনাবাহিনী।
এদের মধ্যে পিয়ালী চৌধুরী নামের এক স্কুল শিক্ষিকা বলেন, ফিরে এসে মনে হচ্ছে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। এই দুটো দিন খুব আতঙ্কে ছিলাম। বাসায় রান্নাবান্নাও হয়নি। বাচ্চারাও সবসময় কান্নাকাটি করতো।
এই ভবনের নিচতলায় থাকতেন গৃহিণী আশালতা ঘোষ। জঙ্গিরাও নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। আশালতা বলেন, শুক্রবার ভোরে বিস্ফোরণের পরই টের পাই ওই বাসায় জঙ্গিরা রয়েছে। এর আগে তাদের ব্যাপারে কিছুই টের পাই নি আমরা।
তিনি বলেন, কাছাকাছি ফ্ল্যাটে হওয়ায় খুব আতঙ্কে ছিলাম।
জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে রাখার পর ওই দুই ভবন ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় আতঙ্কের মধ্যে ৩০ ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ থাকার পর শনিবার সেনা অভিযানে উদ্ধার হয়ে ‘নতুন জীবন’ পেয়েছেন বলে মনে করছেন তিনিও।
একই মালিকের ওই দুই ভবনে একটির নিচ তলায় এক জঙ্গি দম্পতি রয়েছে, ধারণা থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রথম অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরপর যায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং সোয়াট; সবশেষে অভিযানের নেতৃত্ব নেয় সেনাবাহিনী।
সোয়াট শুরুতে এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’। কিন্তু সেনাবাহিনী নেতৃত্ব নেওয়ার পর অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’।
ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচতলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে সমান সংখ্যক পরিবারের বসবাস। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে বাকি পরিবারগুলো হয়ে পড়েছিল কার্যত জিম্মি।
পাঁচতলা ভবনটির তৃতীয় তলায় বসবাস করা উজ্জ্বল চক্রবর্তী বলেন, “শুক্রবার সকালে হঠাৎ বোমার বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে, জানতে পারি ভবনে জঙ্গি রয়েছে। দুই দিন অবরুদ্ধ ছিলাম, বিদ্যুৎ-গ্যাস ছিল না।”
সেনা অপারেশন শুরুর সাড়ে নয় ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফখরুল আহসান জানান।
দিনভর অভিযানে মুহুর্মুহু গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সন্ধ্যায় একজন নিহত ও সেনা সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এর আগে জঙ্গিবিরোধী কোনো অভিযানে এত দীর্ঘ সময় লাগেনি।
আপনার মন্তব্য