২৬ মার্চ, ২০১৭ ২০:৫৭
২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে জাতীয় পার্টি ও জাসদের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।
শনিবার (২৫ মার্চ) জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা জাপার আহ্বায়ক সাহেদ আহমদ এছাড়া জাসদের (ইনু) প্রার্থীর মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক শমসের আলম।
আর আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রীর চিঠি পেয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুক্কুর। বিএনপির চেয়ারপার্সনের চিঠি পেয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নাছের পিন্টু।
অপরদিকে দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ায় অনেকেই নেমেছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। তাঁরা জনবহুল বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের কাছে দোয়া চাইছেন। আবার কেউ ঘুরছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী সাহেদ আহমদ বলেন, শনিবার রাতে দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমাকে জাতীয় পার্টি একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দিব রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। ১৬ বছর পর পৌরবাসী এবার একটা পরিবর্তন চায়। ভোটারদের হাবভাব দেখে এমনটিই মনে হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে তারা কিছুই না পেয়ে হতাশ।
অপরদিকে জাসদের শমসের আলম বলেন, সোমবার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আমার মনোনয়ন জমা দিব। এলাকার সর্বসাধারণের সমর্থন রয়েছে আমার পক্ষে। ১৬ বছর পর এলাকার মানুষ পরিবর্তন চায়। নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রবাসী অধ্যুষিত আমাদের প্রাণের শহর বিয়ানীবাজার। এখানে মানুষের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। প্রতিদিন কয়েক হাজার টন বর্জ্য রাস্তায় খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই করুণ। পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা প্রভাব ফেলছে পৌর শহরের জীবনযাত্রায়।এছাড়াও শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ফ্রিসহ আধুনিক সব সুবিধা নাগরিকদের প্রদান কার হবে।এছাড়াও সবার জন্য একটি নিরাপদ বিয়ানীবাজার উপহার দিতে চাই।
জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে বিয়ানীবাজার সদর ইউনিয়ন এবং আরও কিছু এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠন করা হয়। পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য পৌর প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা তদবির শুরু করেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ঝুঁকি এড়াতে সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে উপেক্ষা করে সরকারী কর্মকর্তাকে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া এবং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগে অন্য ব্যক্তিকে পৌর কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন সদর ইউনিয়নের তখনকার চেয়ারম্যান মোঃ তফজ্জুল হোসেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাকে পৌর প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন। পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তফজ্জুল হোসেন। কিন্তু রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে তাকে পৌরসভার কার্যক্রম চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মিটার ভাড়া নিয়ে আন্দোলনের সময় কারাবরণ করেন তফজ্জুল হোসেন। তখন বিয়ানীবাজার থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহস্রাধিক স্মারকলিপি গিয়ে জমা পড়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় মন্ত্রণালয় এই পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকে। এক সময় পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পৌরবাসীদের কিছু অংশ তৎপর হয়ে উঠে। যে কোন সময় নির্বাচন হতে পারে এই আশংকা ভর করে বসে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তি এবং পৌরসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সীমানা সংক্রান্ত একাধিক রিট আবেদন জমা পড়ে হাইকোর্টে।
এদিকে সরকার সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংসদে একটি বিল পাশ করে। এর ফলে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকল শঙ্কা দূর হয়। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আটগাঁট বেঁধে মাঠে নামেন। সর্বশেষ বিয়ানীবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী সেন্টার নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। নবাং এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কসবা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর হওয়া সেন্টার পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে। নয়াগ্রাম এলাকাবাসীও সেন্টার স্থানান্তর হওয়ার প্রেক্ষিতে পৃথক আরেকটি আবেদন দাখিল করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী সেন্টার পূর্বেকার অবস্থায় ফিরিয়ে না নিলে এ দু’ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষে উচ্চ আদালতে পৃথক রিট আবেদন দাখিল করা হয়। এখানকার নির্বাচন নিয়ে কথা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পৌর) মাহমুদুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, সংসদে পাশ হওয়া বিল এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে সর্বশেষ রায় পর্যালোচনা করে বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য