২৬ মার্চ, ২০১৭ ২২:৪১
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রোববার (২৬ মার্চ) হিন্দু সম্প্রদায়ের বারুণী স্নানোৎসব উদযাপিত হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে পুণ্যার্থীদের ভিড় জমে। উৎসবে আসা অনেকেই গাড়ি থেকে অবৈধভাবে টোল আদায় ও অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন।
পুণ্যার্থীরা অভিযোগ করেন, বারুণী স্নানের দিন গাড়ি পার্কিংয়ে টোল না নেওয়ার কথা থাকলেও ইজারাদার তা আদায় করেছেন। ছোট-বড় গাড়ি প্রতি ২০ থেকে ১০০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়েছে। এছাড়া টোল আদায় নিয়ে অনেক পুণ্যার্থীর সাথে ইজারাদারের লোকজন অসদাচরণ করেছেন।
এ বিষয়ে ইজারাদার আলাউদ্দিন পুণ্যার্থীদের সাথে তার লোকজনের অসদাচরণের বিষয়টি জানা নেই জানিয়ে বলেন, "আমরা হিন্দু পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে কোন টোল আদায় করি নি। এখানে মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছ থেকে টোল আদায় করা হয়েছে।"
রাস্তায় টোল আদায়ের ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "পুণ্যার্থীদের গাড়ি থেকে টোল আদায়ে নিষেধ করা হয়েছে। এটা দেখার জন্য আমাদের লোকবল নাই। প্রতিবারই এরকম অভিযোগ আসে। এটা স্থানীয় প্রশাসনের দেখার কথা। টাকা আদায়ের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইজারাদাররা অস্বীকার করে।"
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, "নির্বিঘ্নে বারুণী স্নানোৎসব উদযাপিত হয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।"
রোববার ভোর থেকে শুরু হয় স্নান। চলে বিকেলে ৫টা পর্যন্ত। এতে শুধু এলাকার নয়, দূর-দূরান্তের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও যোগ দেন। হাজারো পুণ্যার্থীর ভিড়ে জলপ্রপাত এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। ছোট-বড় অসংখ্য গাড়ির দীর্ঘ সারি হয় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে আসা-যাওয়ার রাস্তায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই নন, অন্য ধর্মের মানুষও উৎসবের আনন্দে ছুটে আসেন এখানে। বারুণী স্নান উপলক্ষে মাধবকুন্ড এলাকায় বসে রকমারি পণ্যের মেলা।
মাধবকুন্ড উন্নয়ন ও পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনুকুল চন্দ্র দেব বলেন, "ধারণা করা হচ্ছে পুণ্যস্নানে এদিন অন্তত ২০ হাজার মানুষ এসেছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যার ফলে কোন ধরণের দুর্ঘটনা কিংবা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি।"
আপনার মন্তব্য