নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ মার্চ, ২০১৭ ০১:০৩

‘কি অপরাধ ছিলো আমার ভাইয়ের?’

রোববার (২৬ মার্চ) দুপুরে ওসমানী হাসপাতালের মর্গের সামনে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলামের ভাই সাইফুল ইসলাম শামীম ও বোন দিল আফরোজা বেগম।

ক্ষোভের সঙ্গে তাঁরা বলেন, 'কি অপরাধ ছিলো আমার ভাইয়ের? কেনো একটি স্বাধীন দেশের প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হয়?'

দক্ষিণ সুরমার শিবাবাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আতিয়া মহল নামের একটি পাঁচতলা বাড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযান চলাকালে শনিবার সন্ধ্যায় ওই ভবনের পাশেই বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল।

রোববার তাঁর ভাই ও বোন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা কোনো সহযোগীতা পাইনি। এই ঘটনায় আহত উচ্চপদস্থের কর্মকর্তাকে হ্যালিকাপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলো।  আমরা বলেছিলাম, আমাদের ভাইকেও হ্যালিকাপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়া হোক। টাকা আমরা দেবো। তবু তাকে নেওয়া হয়নি।

শনিবারের দুই দফা বিস্ফারণে মনিরুল সহ মারা যান ছয়জন। নিহত বাকীরা হলেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়ছর, ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহমি ও অহিদুল ইসলাম অপু, ছাতকের দয়ারবাজার এলাকার কাদিম শাহ এবং নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার শহীদুল ইসলাম।

রোববার মরদেহ নিতে ওসমানী হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হয়েছিলেন নিহতদের স্বজনরা। এসময় তাদের কয়েকজনের সাথে কথা হয়।

পুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়ছরের ভাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে খবর পাই তিনি আহত হয়েছেন। কিন্তু আমি হাসপাতালে এসে দেখি মারা গেছেন। আমি বাকরুদ্ধ। কিছু বলার নেই।

ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহমির চাচাতো ভাই শামীম আহমদ পাপ্পু বলেন, সবকিছুতেই ছিলো ফাহমির আগ্রহ। আগ্রহ থেকেই শনিবার ওই অভিযান দেখতে গিয়েছিলো সে। এটাই তার জন্য কাল হলো। ওর জন্য ১৫ ব্যাগ রক্ত জোগাড় করেছিলাম। তবু বাঁচানো গেলো না।

আরেক ছাত্রলীগ নেতা অহিদুল ইসলাম অপুর ফুপাতো ভাই মো. লায়েক হোসেন বলেন, অপু ছাত্রলীগ করতো। সবার সাথে সুসম্পর্ক ছিলো। বন্ধুদের সাথে সে অভিযানের ওখানে গিয়েছিলো। কেনো যে গেলো?

ছাতকের দয়ারবাজার এলাকার কাদিম শাহও মারা গেছেন শনিবারের বিস্ফােরণে। রোববার ছেলের লাশ নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন তার বাবা ইসমাইল আলী। এসেছিলেন কাদিম শাহ'র স্ত্রীও। ইসমাইল আলী বলেন, ভালোবেসে বিয়ে করায় ছেলের সাথে কিছুটা দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিলো। শনিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসি।

দাঁড়িয়াপাড়ার ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের সাথেই কাদিম সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান তাঁর বাবা।  

শহিদুলের স্বজনরাও ছিলেন হাসপাতালের মর্গের সামনে। তবে তারা কোনো কথা বলেননি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত