২৮ মার্চ, ২০১৭ ১৪:১২
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রসিদ্ধ একটি মন্দির সিলেটের শিববাড়ি। মন্দিরের নামেই এলাকাটির নাম। তাতে বেশ কিছু পাড়া মহল্লা রয়েছে। শিববাড়ি এলাকাটি সিলেট নগরীর একেবারে দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত। এলাকাটি হিন্দু জনগোষ্ঠীবহুল।
এই এলাকাটিকে বেছে নিয়ে স্থানীয় ছাত্রশিবির নেতার বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা গড়ে তুলে নব্য জেএমবির সদস্যরা। বেশ নিরিবিলি বলেই হয়তো তারা এ এলাকাটিকে বেছে নিয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দেশে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের দেওয়া তথ্যে ও প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জেনে যায় তাদের অবস্থান এবং অবস্থান শনাক্ত হওয়ার ৯০ ঘণ্টার মাথায় আস্তানায় থাকা সকল জঙ্গিই সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছে।
অতি সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক জঙ্গিদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল প্রায় এক সপ্তাহ আগে সিলেট আসে। নব্য জেএমবির কোন শীর্ষ নেতা দলবলসহ সিলেটে অবস্থান করছে এটি নিশ্চিত হয়ে তারা প্রযুক্তির সহায়তায় সিলেটের দক্ষিণ প্রান্তে শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকায় তাদের আস্তানার সন্ধান পায়।
ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমে প্রদানকৃত তথ্য অনুযায়ী পুলিশ জানতে পারে বাসাটি গত জানুয়ারি মাসে গাজীপুরের বাসিন্দা মর্জিনা বেগম ও তার স্বামী কাওসার আহমদ পরিচয়ে ভাড়া নিয়েছেন। নিজেদেরকে প্রাণ আরএফএল কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়।
বাড়ির মালিক সিলেট নগরীর আতিয়া ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির বান্দরঘাটের বাসিন্দা উস্তার মিয়া। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামায়াত নেতা নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠজন এবং জামাতের অর্থের যোগানদাতা বলে এলাকাবাসী জানায়। তার পুত্র কাউসার আহমদ রিপন শিবির নেতা। বাড়ির মালিক উস্তার মিয়ার কাছে দেওয়া ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমে প্রদানকৃত তথ্য ও ছবি দেখে পুলিশ জঙ্গিদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ২টায় পুলিশ পাঠানপাড়ার আতিয়া মহল নামের এই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এই মহলের সামনে ১টি চারতলা ভবন এবং পিছনে ৫তলা ভবনের দুটি ইউনিটে বসবাস করে প্রায় ৪০টি পরিবার। তাদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ, ব্যবসায়ী, শিক্ষিকা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীর পরিবার। পিছনের ৫তলা ভবনের নিচ তলার বাম দিকের একটি ফ্লাটে জঙ্গিরা বসবাস করছে নিশ্চিত হয়ে ভোর রাতে পুলিশ ফ্ল্যাটটিতে বাইরে থেকে তালা দেয়। শুরুতেই দুটি বিল্ডিং এর কিছু পরিবারকে পুলিশ সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। একপর্যায়ে হ্যান্ড মাইকে বাসার বাসিন্দাদেরকে বাসা থেকে বের হতে বলে পুলিশ। ঘিরে ফেলা হয়েছে তা আঁচ করতে পেরে জঙ্গিরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সকালে। ফলে বাসার বিভিন্ন তলায় আটকা পড়ে যায় প্রায় ২৭টি পরিবারের ৭৮ জন সদস্য।
সিলেটে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রেখেছে পুলিশ- ভোরের দিকে সে খবর জেনে যান মিডিয়ার কর্মীরা। এরপর থেকেই বাড়িটির কাছাকাছি ভিড় করতে থাকেন তারা। এলাকার লোকজনও বিষয়টি জেনে ভিড় করেন এই বাড়িটির কাছে। মিডিয়ার মাধ্যমে বাড়িতে অবস্থানরত বাসিন্দাদের আত্মীয় পরিজনরাও ভিড় করেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় এই এলাকার বিদ্যুৎ ও ডিশ সংযোগ।
এসময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, তারা নিশ্চিত ভিতরে দুই এর অধিক জঙ্গি রয়েছে। তবে কারা অভিযান করবে বা কারা আসবে সে বিষয়টি প্রকাশ না করতে এবং টিভিতে লাইভ সম্প্রচার না করতে অনুরোধ করেন।
এসময় বাড়ির আটকে পড়া বাসিন্দাদের আত্মীয়দের মাধ্যমে জানা যায় তারা ভেতরে নিজেদের বাসাতেই আছেন। তবে তাদের মধ্যে ছিল উৎকণ্ঠা, আতঙ্ক। আটকে পড়াদের মধ্যে ছিলেন গর্ভবতী নারী শিশু বৃদ্ধা।
বেলা ১১টার দিকে তাদের সাথে যোগ দেয় র্যাব। সকাল থেকেই সাংবাদিকরা জানতে পারেন ঢাকা থেকে রওয়া হয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটের একটি দল। সাথে বোমা ডিসপোজেল ইউনিট। শুরু হয় অপেক্ষার পালা।
পুলিশ সকাল থেকে হ্যান্ড মাইকে বাসার বিভিন্ন দিক থেকে জঙ্গিদেরকে আত্ম সমর্পণের আহবান জানাতে থাকে। দুপুরের দিকে বাসার পূর্ব দক্ষিণ দিকের জানালা দিয়ে তারা সাড়া দেয়।
দফায় দফায় এভাবে আহ্বান জানানোর মধ্যে শাহ আলম নামে পুলিশের একজন এসআই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের উদ্দেশে মাইকে বলেন, “আপনারা মুসলমান, আমরাও মুসলমান। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে মিডিয়ার ভাইয়েরা আছেন, আপনারা কথা বলুন।”
এ সময় ওই বাড়ি থেকে জানালা ফাঁক করে নারী কণ্ঠের জবাব আসে, “আপনারা শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে।”
এর পরপরই আরেক পুরুষকণ্ঠে পুলিশের উদ্দেশে বলা হয়, “দেরি করছ কেন? আমাদের সময় কম। তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাও।”
কিন্তু এই কথোপকথনের পর থেকে আর কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছিলনা। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে সোয়াট ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তারা বাসাটির অবস্থান এবং অভিযানের বিষয়ে পরিকল্পনা ও আশপাশের স্থানগুলো রেকি করেন। এভাবে কেটে যায় প্রায় আরও ৪ ঘণ্টা। রাত পৌনে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে সেনাবাহিনীর একটি দল।
এরপর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, সেনাবাহিনী তাদেরকে এসিস্ট করতে এসেছে। তবে কখন অভিযান শুরু হবে তা বলেননি। তবে মিডিয়ার কাছে খবর আসতে থাকে রাতে অভিযান হবে না। ভোরের আলো ফোটার পরই শুরু হবে অভিযান। রাত দেড়টার দিকে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। থেকে যান র্যাব পুলিশ সোয়াটের সদস্যরা। এসময় নানান রকমের খবর আসতে থাকে।
রাত সোয়া তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি ভবনটি পর্যবেক্ষণ করে চলে যান পার্শ্ববর্তী জহির তাহির উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে।
অপেক্ষায় পুরো রাত জেগেই কাটিয়ে দেন সংবাদকর্মীরা। সকালে জানা যায়, সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো অভিযান হবে, তারা প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন। সকাল আটটার দিকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় গ্যাস সংযোগ। বন্ধ করে দেওয়া হয় সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক। প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির মধ্যে সেনা সদস্যরা প্রায় ২৫টি জিপ, ১টি সেনা লরি, ৪টি বুলেট প্রুফ আর্মার পার্সোনাল কেরিয়ার যাকে বলা হয় এপিসি, বেশ কটি এম্ব্যুল্যান্স এবং নানা রকম ভারি অস্ত্র নিয়ে হাজির হয় শতাধিক সদস্যের প্যারা কমান্ডো দল। শুরুতেই সেনাবাহিনী সদস্যরা আতিয়া মহলের আশপাশ থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ র্যাব ও সোয়াটের সদস্যদের।
সকাল পৌনে ৯টার দিকে শুরু হয় ‘অভিযান টোয়াইলাইট’। এর কিছু সময়ের মধ্যেই সেনা ইনটিলিজেন্সের কর্মকর্তা জানান ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেনের তত্ত্বাবধানে এবং কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে অভিযানটি শুরু হয়। অভিযানে আশপাশের লোকজনকে নিরাপত্তা দিয়ে সহায়তা করছে র্যাব পুলিশ। এই কর্মকর্তা জানান, অভিযানের প্রাথমিক লক্ষ হলো কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার ও বাড়িটি জঙ্গিমুক্ত করা। এসময় অভিযানের ছবি তুলতে নিষেধ করা হয়। সাংবাদিকদের সরিয়ে নেওয়া হয় আরও দূরে। কিছু সময় পর ১টি ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।
অভিযানের প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর ১২টায় সাংবাদিকদের অবস্থানের বিষয়ে একটু শিথিল হয় সেনাসদস্যরা। এসময় তাদের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয় তাদের এবং সেনা অফিসারদের সাথে কথা বলে জানা যায় কোন ধরনের বাধা ছাড়াই প্রায় সকল আটকে পড়া বাসিন্দাদের বের করে নিতে সক্ষম হয় সেনা বাহিনী।
এরপর শুরু হয় জঙ্গিদের ঘিরে অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। দুপুর ২টায় একটি এপিসি নিয়ে ভবনটির উত্তর দিকে প্রবেশ করে কমান্ডোরা। এর কিছু সময় পর হতেই শুরু হয়ে যায় প্রচণ্ড গুলি। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। তাদের বাসার কাছে পৌঁছাতেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। তাতে বাসার কলাপসিবল গেট উড়ে যায়। ছিটকে পড়েন ৪ কমান্ডো সদস্য। তবে তাদের কেউই আহত হয়নি।
এরপরই অভিযানে গতি আনে কমান্ডোরা। রকেট লাঞ্চার ও মর্টার দিয়ে বাসার দেওয়ালে গর্ত করে গ্রেনেড চার্জ করে কমান্ডোরা। ভিতরে নিক্ষেপ করা হয় শত শত টিয়ার শেল। একপর্যায়ে জঙ্গিরা পুরো ৫তলা ভবনেই বিচরণ করতে থাকে। কমান্ডোদের ছোঁড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণের আগেই ফিরত দিয়ে সক্ষমতা পরিচয় দিতে থাকে জঙ্গিরা। ফায়ার ব্যাক করে জঙ্গিরা সমান তালে লড়ে যাচ্ছিল। বিকাল ৫টা ৪০মিনিট পর্যন্ত গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ থেমে থেমে শুনা যায়। সন্ধ্যা ৬টা ২০মিনিটে জহির তাহির স্কুলের পাশের ভবনে প্রেস-ব্রিফিং করে সেনাবাহিনী।
সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান জানান জঙ্গিরা ১২টি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।
শনিবার সন্ধ্যায় এই প্রেস ব্রিফিং শেষ হওয়ার পরপর আতিয়া মহলের অদূরে পুলিশ চেকপোস্টের কাছের রাস্তায় উৎসুক জনতার মাঝখানে বিস্ফোরিত হয় একটি বোমা। তাতে ২ জন নিহত ও আহত হন প্রায় ২৫ জন। তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ র্যাব এই বিস্ফোরণস্থলটিতে তল্লাশি করতে আসে। এসময় ফেলে রাখা আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হলে মারা যায় পুলিশের দুই পরিদর্শক। আহত হন র্যাবের গোয়েন্দা প্রধানসহ র্যাব পুলিশের বহু সদস্য। পৃথক দুটি বিস্ফোরণে মোট নিহত হন ৬ জন । তাদের মধ্যে ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা, ২জন ছাত্রলীগ নেতা, ২ জন ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী।
তারা হলেন- পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. কয়সার, জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, মদন মোহন কলেজের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুল ইসলাম অপু, কুচাই এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও দক্ষিণ সুরমা ছাত্রলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফাহিম, নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বর্তমানে নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম ও তার বন্ধু ভিডিওগ্রাফার সুনামগঞ্জের ছাতক দোলার বাজার এলাকার খাদেম শাহ। হামলায় আহত হন অন্তত ৫০ জন। অভিযান সম্পর্কে প্রথম দিনের প্রেস ব্রিফিং শেষে ঐ পথেই ফিরার কথা ছিল সাংবাদিকদের। প্রথম হামলাটি মূলত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করেই হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা।
শনিবার সারা রাতেই দিনের মতো বিস্ফোরণের শব্দ বা গুলির শব্দ তেমন পাওয়া যায়নি। তবে রোববার সকাল হতেই শুরু হয় আবারও প্রচণ্ড গুলি ও বিস্ফোরণ। দিনভর গুলি ও বিস্ফোরণের পর বিকেল সাড়ে ৫টায় পাঠানপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় দিনের প্রেস-কনফারেন্সে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান জানান অভিযানের দ্বিতীয় দিনে কমান্ডোদের গুলিতে ২ জন জঙ্গি নিহত হয় বলে জানান। আরও একাধিক জঙ্গি রয়েছে। জঙ্গিদের হাতে প্রচুর বিস্ফোরক রয়েছে। তারা ‘ওয়েল ট্রেইন্ড’।
রবিবার রাতেও থেমে থেমে গুলির শব্দ শুনা যায়। সোমবার ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এরপর থেকে আতিয়া মহল থেকে আর কোন শব্দ শুনা যায়নি। রাত সাড়ে ৭টার দিকে অভিযান টোয়াইলাইটের ৬০ ঘণ্টা পর পাঠানপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তৃতীয় দিনের প্রেস-কনফারেন্সে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন মোট ৪ জঙ্গির সকলেই নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ১ জন মহিলা। তবে ২জন জঙ্গির লাশ পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজ’ন জঙ্গির লাশ এক্সোপ্লোসিভ জড়ানো থাকায় ভিতরে পড়ে আছে। ভিতরে প্রচুর বিস্ফোরক মজুদ করেছিল। এগুলো সরানোর কাজে অভিযান শেষ হতে সময় লাগবে।
তিনি বলেন এই অভিযানটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটা বিশাল সফলতা। বেশ কয়েকটি প্রাইওরিটি নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়েছে। প্রথমটি ছিল আটকে পড়া পরিবারগুলোকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা। দ্বিতীয়টি ছিল নিজেরা নিরাপদে থেকে বাড়িটি জঙ্গিমুক্ত করা। সবগুলোতেই তারা সফল হয়েছে। যদিও অভিযানটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ভেতরের জঙ্গিরা ছিল উন্নত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং তাদের হাতে ছিল প্রচুর বিস্ফোরক ও ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। তাদের সকলের শরীরেই ছিল সুইসাইডাল ভেস্ট। যা দিয়ে জঙ্গিদের ১ জন দ্বিতীয় দিনের অভিযানে কমান্ডোদের গুলিতে বিদ্ধ হলে এর বিস্ফোরণ ঘটায়।
অপারেশন টোয়াইলাইট এর কমান্ডোরা মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টার অপারেশনে উদ্ধার করে ৭৮ জন বাসিন্দাকে। ৬০ ঘণ্টার অপারেশনে ৪ জঙ্গির সকলেই নিহত হয়। এখনও চলছে অপারেশন টোয়াইলাইট। এবার বিস্ফোরক সরানোর অভিযান। অতিবাহিত হয়েছে ৭৫ ঘণ্টা।
আপনার মন্তব্য