সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০১ এপ্রিল, ২০১৭ ০১:৩৩

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে হাওরের ফসল

তিন দিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনারতাল হাওরের ৫০০ হেক্টর জমির উঠতি বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

এছাড়াও দিরাই উপজেলার বরাম হাওরের তুফানখালি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সোনাতলা কাইক্কার ধাইর হাওরের ২০০ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া ও মইয়ার হাওরসহ জেলার আরও একাধিক হাওরের বোরো ধান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহেদুল হক বলেন, পাহাড়ি ঢল, বর্ষণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মওসুমের শুরুতেই ঝুঁকিতে পড়েছে হাওরের বোরো ফসল।

বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে বাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। অবস্থা অপরিবর্তিত না হলে সব হাওরেরই ফসল তলিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, এখন ফসল তলিয়ে গেলে কৃষকের কোন লাভ হবেনা। কারণ আরও ২০-২৫ দিন পরে ফসল কাটার উপযুক্ত হতো। স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা জানান, বর্ষণে, ঢলে এবং ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সোনাতলা কাইক্কার দাইর হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে দিরাই উপজেলার বরাম হাওরের তুফানখালি বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ফসল, বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার তাল হাওরের ডুবাইল বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে গেছে।

দিরাই উপজেলার দারাম হাওরের গাগড়াখালি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। তাহিরপুর উপজেলার বোরো ভাণ্ডার খ্যাত শনি ও মাটিয়ান হাওরেও পানি ডুকছে। বাধে মাটি দিতে প্রতিটি গ্রামের মসজিদের মাইকে কৃষকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য গত মওসুমেও তাহিরপুর উপজেলার এই দুটি হাওরের বোরো ফসল সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়েছিল। এদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া এলাকায় দুষ্কৃতিকারীরা একটি বাঁধ কেটে দেওয়ায় হাওরে পানি ডুকতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ এ বছর প্রায় ৫৫ কোটি টাকা হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাধে সরকার বরাদ্দ দিলেও কাজ শুরু হয়নি যথা সময়ে। বাঁধের বরাদ্দ পাউবো ও সংশ্লিষ্টরা মিলে লোপাট করেছে বলে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। বাধে মাটি না ফেলায় ধর্মপাশা উপজেলার ডুবাইল হাওরে পানি ডুকে সম্পূর্ণ ফসল তলিয়ে গেছে। পিআইসির কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে জনৈক ঠিকাদারকে এই হাওরের কাজ দিয়েছিল পাউবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে ঢল ও বর্ষণের কারণে জেলার চন্দ্র সোনারতাল, গুরমার, বরাম ও নলুয়ার হাওর ঝুঁকিতে রয়েছে।

সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, শুক্রবার রাতে ডুবাইল হাওরের সম্পূর্ণ কাচা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এই হাওরের বাধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও জাহাঙ্গীর জনৈক ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ঠিকাদার কোন কাজ করায়নি। যার ফলে বাঁধ না থাকায় পানি ডুকে হাওরের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসর উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে কয়েকটি হাওরের ফসল ঝুঁকিতে আছে। দোয়াবাজারের দোহালিয়ায় একটি বাঁধ ভেঙে দিয়েছে দুষ্কৃতিকারী। এছাড়াও দিরাই-ধর্মপাশার দুটি হাওরে পানি ঢুকছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহেদুল হক বলেন, চন্দ্রসোনার তাল হাওরের বাঁধ ভেঙে ৫০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরও একাধিক হাওরে পানি ঢুকছে বলে তিনি জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত