নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:৪৭

শিববাড়ির বাতাসে লাশের দুর্গন্ধ

ছয়দিন গ্যাস-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় বন্দি অবস্থায় ছিলেন সিলেট নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের বৃহত্তর শিববাড়ি এলাকার বাসিন্দারা। তার উপর ছিলো গুলি-বোমা-বিষ্ফোরণ আর উদ্বেগ-আতঙ্ক। গুলি-বিস্ফোরণ থেমেছে, যান চলাচল বন্ধ থাকা সড়কগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন উপদ্রব হয়ে দেখা দিয়েছে দুর্গন্ধ।

আতিয়া মহলের ভেতরে পড়ে থাকা দুই জঙ্গির মরদেহের দুর্গন্ধের কারণে ঘরেও টিকতে পারছেন না এই এলাকার বাসিন্দারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ভবনে অবিস্ফোরিত বোমা থাকতে পারে। আর বোমা নিস্ক্রিয়করণ দল এসে পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত আতিয়া মহলের ভেতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ফলে মরদেহ দুটিও উদ্ধার করা যাচ্ছে না।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. দেবপদ রায় বলেন, বাতাসে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার লোকজন শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভূগতে পারেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে শিশুরা।

আতিয়া মহলে চালানো অপারেশন টোয়াইলাইট গত মঙ্গলবার সমাপ্ত ঘোষণা করেছে সেনাবাহিনী। এর আগে সোমবারই চার জঙ্গি নিহতের খবর জানানো হয়। এদের মধ্যে সোমবার সেনাবাহিনী দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে এনে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও বাকি দুটি মরদেহ পড়ে থাকে ঘরের ভেতরে। পাঁচদিন ধরে আতিয়া মহলের ভেতরে থাকা মরদেহ থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ গত দুদিনের ঝড়ো হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকাময়। দুর্গন্ধের কারণে আতিয়া মহলের আশপাশের বাড়ির বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।

এদিকে, আতিয়া মহল থেকে উদ্ধার হওয়া অপর দুই জঙ্গির মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে শনিবার পুলিশের উদ্যোগে দাফন করা হয়েছে। বিকেলে নগরীর মানিকপীর গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয় বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা।

আতিয়া মহলের পাশেই শিবাবাড়ি বাজার। শনিবার দুপুরে এই বাজারে গিয়ে দেখা যায় পুরো জনশূণ্য এলাকা। বেশিরভাগ দোকানপাটও বন্ধ। বাজারের এক কোণায় পান সিগারেটের একটি বাক্স নিয়ে বসেছেন আতাহার মিয়া। তার মুখে মাস্ক লাগানো। তিনি বলেন, দুর্গন্ধের কারণে তো ঘরেও টেকা যাচ্ছে না। বাজারে লোকজন আসবে কি করে। এই ক’দিনের ঝড়-বৃষ্টির কারণে দুর্গন্ধ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

শিববাড়ি এলাকার দেশবন্ধু প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক নুসান মিয়া বলেন, দুর্গন্ধের কারণে এই এলাকা দিয়ে এখন কেউ আসছে না। কারখানায় কর্মীরাও থাকতে পারছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান আহমদ বলেন, দুর্গন্ধের কারণে ঘরেও থাকা যায় না। ঘরের বাইরে বেরোনোর তো কোনো উপায় নেই। অভিযান শেষ হওয়ার পরও মরদেহ না সরানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জেদান আল মুসা বলেন, সেনাবাহিনীর একটি বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দলটির সদস্যরা বর্তমানে জালালাবাদ সেনানিবাসে অবস্থান করছেন। রোববার তারা আতিয়া মহলের বোমা নিস্ক্রিয়করণের অভিযান শুরু করতে পারেন। তাদের অভিযানের পর মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হবে।

গত ২৩ মার্চ মধ্যরাত থেকে শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহল নামের একটি বহুতল ভবন ঘিরে রাথে পুলিশ। ২৫ মার্চ সকাল থেকে অপারেশন টোয়াইলাইট নামে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল। মঙ্গলবার অভিযান শেষে চার জঙ্গি নিহতের খবর জানানো হয়। অভিযান চলকালে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের পাশে বিস্ফোরণে র‌্যাব-পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত হন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত