নাবিদ হাসান

০৭ এপ্রিল, ২০১৭ ২১:২৯

কমিটি গঠনেই সীমাবদ্ধ ক্ষমতাসীনদের জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম

গত ১ জুলাই গুলাশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর সারাদেশে জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সিলেট জেলা ও মহানগরেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় 'সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি'।

তবে কমিটি গঠনের প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নেই কোনো কার্যক্রম। কমিটি গঠনেই আটকে আছে জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রম। কমিটির সদস্যরা একবারের জন্য নিজেদের মধ্য বসতেও পারেননি এখন পর্যন্ত।

জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটির কার্যক্রম না থাকলেও থেমে নেই জঙ্গিরা। গুলশানে হামলার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। খোদ সিলেটেই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলেছে। সিলেট নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলে বিপুল গোলাবারুদ নিয়ে আস্তানা গড়েছিলো জঙ্গিরা। তাদের পরাস্ত করে সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডোদেরও চারদিন লড়াই করতে হয়।

শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান ও গত ২৫ মার্চ ওই আস্তানার পাশেই জঙ্গিদের বিস্ফোরণে ৭ জন নিহতের পরও কোনো কার্যক্রম নেই 'সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি', সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার।

জানা যায়, গুলাশানের রেস্তোরাঁয় হামলার পর গত বছরের  ৮ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সিলেট জেলা  ও মহানগরে সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের।

জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের পর সিলেটের প্রত্যেক উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওর্য়াড পর্যায়েও কমিটি গঠনের কথা বলা হয় চিঠিতে।

এই নির্দেশনার পর  জেলায় ২৪১ সদস্য বিশিষ্ট ও মহানগরে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট  সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি গঠন করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমানকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে জেলা কমিটি এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদকে সদস্য সচিব করে এই দুই কমিটি গঠন করা হয়। দুটি কমিটিতেই ১৭ জন যুগ্ন আহ্বায়ক করে বাকিদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়।

দুটি কমিটিইতে সদস্য হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

তবে এসব কমিটিতে নাম থাকা একাধিক সদস্যই কমিটি গঠনের ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। এমনকি কমিটিতে তাদের নাম থাকার ব্যাপারেও তারা অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

এমনকি কমিটিগুলোর আহ্বায়ক-সদস্য সচিবের পদে থাকা নেতারাও ভুলে গেছেন এমন কমিটি গঠনের কথা।

সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি, সিলেট জেলা শাখার সদস্য সচিব শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ দমনে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু কমিটি গঠনের পর আর কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি। কেন্দ্র থেকেও এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
 
সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি, সিলেট মহানগর শাখার আহ্বায়ক বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, সিলেট মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে নানান কর্মসূচি ও দিকনির্দেশনা দেয়া  হয়েছে। সম্প্রতি আবারো জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। আমরা খুব শীঘ্রই আবারো নানা কর্মসূচি দিয়ে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও নৈরাজ্য প্রতিরোধে মাঠে নামবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত