নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০১:২০

অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয় ‘আতিয়া মহল’

দেশজুড়েই সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ভবন আতিয়া মহল। সিলেট নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের শিববাড়ি এলাকার পাঁচতলা ভবনটির এখন পরিচিতি জঙ্গি আস্তানা হিসেবে। ওই আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয় চার জঙ্গি।

তবে আলোচিত এই ভবনটিই নির্মান করা হয়েছে কোনোরূপ অনুমোদন ছাড়াই। সিলেট নগরে বহুতল ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও এই দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন ছাড়াই নির্মান করা আতিয়া মহল।

এরূপ অনুমোদনহীন ও পরিকল্পনাহীন ভবনের কারণে জঙ্গিরা বিপুল অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করলেও তা ঠিকমত নজরদারি করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরক্তি কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিন।

তিনি বলেন, সিলেট নগরী পুরো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এখানে কোনো অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে বেশিরভাগ বহুতল। ফলে নগরীতে কতোটি বহুতল ভবন আছে, কতোটিতে ভাড়াটিরা থাকেন তার কোনো হিসেব পাওয়া যায় না। তাছাড়া পরিকল্পনাহীনভাবে নির্মিত এসব ভবনগুলোতে যাওয়া আসার সড়কও যথেষ্ট প্রশস্ত নয়। ফলে পুলিশী টহলও চালানো যায় না।  

জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা উস্তার আলীর ২০১২ সালে নিজ স্ত্রীর নামে নির্মান করেন পাঁচতলা ভবন আতিয়া মহল। সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নগরীর সর্বশেষ ওয়ার্ডে অবস্থান এই ভবনের। এই ভবনের পাশেই উস্তার আলীর মালিকানাধীন আরেকটি চারতলা ভবন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, আতিয়া মহলের সামনের চারতলা ভবনটির জন্য অনুমোদন নেওয়া হলেও পাঁচতলা ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরীর ভেতরে যে কোনো ধরণের ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। বহুতল ভবন নির্মানের আগে সিটি কর্পোরেশনে ভবনের প্রস্তাবিত নকশা জমা দিতে হয়, এছাড়া ওই স্থানে ভবন নির্মান ঝুঁকিমুক্ত হিসেবেও সংশ্লিস্টদের ছাড়পত্র জমা দিতে হয়। সব কাগজপত্র দেখে নগর কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করলেই ভবন নির্মান করতে হয়।

তবে আতিয়া মহল নির্মানের ক্ষেত্রে এসব বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করা হয়নি। সিলেট দমকল বাহিনী থেকেও ভবনটি নির্মানে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

তবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভবনটি নির্মান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আতিয়া মহলের সত্ত্বাধিকারী উস্তার মিয়া। তবে আতিয়া মহলে র‌্যাব চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ব্যস্ত থাকার কথা বলে অনুমোদনের কোনো কাগজ দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিুজুর রহমান বলেন, আতিয়া মহলের সামনের চার তলা ভবনটির জন্য আমাদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পেছনের পাঁচতলা ভবন, যেটিতে জঙ্গিরা আস্তানা করেছিলো, তার অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এই ভবনের কোনো ফাইল আমাদের কাছে নেই।

গত ২৩ মার্চ মধ্যরাতে এই আতিয়া মহলেই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। ওই রাত থেকে ভবনটি ঘিরে রাথার পর ২৫ মার্চ সকাল থেকে ’অপারেশন টোয়াইলাইট’ নাম দিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। প্রথমে আতিয়া মহলের ৩০টি ফ্ল্যাটে আটকে পড়া ২৮ টি পরিবারের ৭৮ জন সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে শুরু হয় জঙ্গিবিরোধী অভিযান। ২৮ মার্চ অভিযান শেষে চার জঙ্গি নিহতের খবর জানায় সেনাবাহিনী। ২৫ মার্চ আতিয়া মহলের বাইরে বিস্ফোরণে র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত হন।

গত সোমবার থেকে অপারেশন ‘ক্লিয়ার আতিয়া মহল’ নাম দিয়ে ওই ভবনে থাকা অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয়করণের অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। এ অভিযান চলাকালে শনিবার ভবনটি পরিদর্শন করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত