কুলাউড়া প্রতিনিধি

১২ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:১৪

গ্রামের বাড়িতে রিপনের দাফনের প্রস্তুতি, কবর খোঁড়া সম্পন্ন

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জঙ্গি নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপনের দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তার গ্রামের বাড়িতে। গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কোনাগাঁওয়ে দাফন করা হবে রিপনের মরদেহ। বিকেল থেকেই চলে রিপনের কবর খননের কাজ। রাতে কবর খনন শেষ হয়েছে।

রাতের মধ্যেই তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন।

বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রিপনের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া হয়। এরআগে রাত ১০টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

রাত সাড়ে ৯টায় সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, কোনাগাঁও জামে মসজিদের সামনের গোরস্তানে লাইট জ্বালিয়ে কবর খননের কাজ করছেন ৫ জন লোক। বিকেল ৫ টার দিক থেকে কবর খননের কাজ শুরু হয়।

কবর খনন করেন রমিজ আলী, রহমান মিয়া, আমান মিয়া, খালিক মিয়া, আখলাছ মিয়া।

রাতে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ৯ একর জুড়ে বিশাল বাড়িতে বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা। বাড়িতে পাওয়া যায়নি পরিবারের কাউকে। পুরো এলাকা জুড়েই বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা। পুলিশি তৎপরতার কারণে ভয়ে আশপাশের কেউ বের হচ্ছেন না বাড়ী থেকে। ভয়ে রিপনের বাড়ীতেও যাচ্ছেন না কেউ।

এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে দুর্র্ধষ জঙ্গি হওয়ার নানান তথ্য। কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কোনগাঁও গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক আবু ইউসুফ ও শেলী বেগমের ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে রিপন সবচেয়ে বড়। মেধাবী শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন রিপন ১৯৯৬ সালে স্থানীয় ব্রাক্ষণবাজার জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন সিলেট মদনমোহন কলেজে। সেখানেও সে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে বদলে যায় সে। তৎকালীন জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও মুফতি হান্নানের প্ররোচণায় পড়ে হয়ে উঠে জঙ্গি।

এলাকার লোকমুখে গুঞ্জন আছে তৎকালীন সময়ে শায়খ আব্দুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই সিলেটে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে প্রায় সময় রিপনের বাড়ীতে যাওয়া আসা করতো।

প্রসঙ্গত, সিলেটে শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের প্রধান ফটকে ২০০৪ সালের ২১ মে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় ৩ জন নিহত ও আহত হন ৭০ জন। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুল, দেলওয়ার ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন সিলেট দ্রুত বিচার আদালত।

রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা আপিল করলেও পূর্বের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে আসামিদের আপিল ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর খারিজ হওয়ার পর ১৭ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিরা রিভিউ আবেদন করলে ১৯ মার্চ তা খারিজ হয়। ২১ মার্চ রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরদিন দেলওয়ার ওরফে রিপনের রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছায়। ২৭ মার্চ রিপন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন খারিজ করে দেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত