১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ১৮:১৬
বানিয়াচংয়ে ফসলের ক্ষতি সইতে না পেরে মোছাম্মৎ তারাবানু (৪৫) নামের এক কৃষাণী মারা গেছেন।
বুধবার (১২ এপ্রিল) বিকালে হাওরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তারাবানু পৈলারকান্দি ইউনিয়নের কুমড়ি নজরপুর গ্রামের সফর আলীর স্ত্রী।
পৈলারকান্দি ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি এড.আব্দুল হামিদ জানান, অসময়ে বন্যায় ফসলের ক্ষতিতে ইউনিয়নের কৃষক পরিবারগুলোতে আহাজারি ও কান্নার বিলাপ চলছে। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার মতো কোন ভাষাই নেই।
ইউপি সদস্য সহিদ জানান, মৃত তারাবানুর স্বামী বাকপ্রতিদ্বন্ধী। এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে তার। বড় মেয়েটিও বাকপ্রতিবন্ধী। তারাবানু ধারদেনা করে ১০ বিঘা জমি আবাদ করেছিলেন। বুধবার হাওরে গিয়ে দেখেন সমস্ত জমি বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি এই ক্ষতি সহ্য করতে না পেরে হাওর পাড়েই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দরিদ্র এই পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
উল্লেখ্য, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে বানিয়াচং উপজেলার ২০ হাজার হেক্টর বোরো ফসল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এই পানি ঠেকাতে এখনও বিভিন্ন হাওরে চলছে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের যুদ্ধ। বুধবার কাগাপাশা ইউনিয়নের বাগহাতার সিদ্দিক হাওরে চেয়ারম্যান এরশাদ আলীর নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। বড়ইউড়ি মরাবাট হাওরে পানি সরাতে অন্তত ৫০টি সেচ মেশিন স্থাপন করেছেন এলাকাবাসী।
আপনার মন্তব্য