১৭ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:৫৫
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ছোট-বড় সবকয়টি হাওরের ফসল ডুবে যাওয়ায় একদিকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা, অন্যদিকে ধান পচে দেখা দিয়েছে নতুন এক সমস্যা। শনিবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যার ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে পৌর শহরসহ হাওর পাড়ের এলাকায় দেখা দিয়েছে বিদঘুটে দুর্গন্ধ।
গত দুইদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে মাছ মরে পচে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত এসব মাছ না খেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্কও করা হয়েছে।
ধান পঁচে পানিতে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের বিষাক্ত গ্যাস এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ। এ বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে বিভিন্ন নদী ও হাওরের ছোট বড় সব জাতের মাছ মরে যাচ্ছে । আজ সোমবারও (১৭ এপ্রিল) বিভিন্ন নদী ও হাওরের মাছ মরে পানির উপরে ভেসে উঠতে দেখা গেছে ।
স্থানীয়রা জানান, অকাল বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে উপজেলার বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর পানির নীচে থাকা ধান পচে সৃষ্ট দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এতে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাওরের মাছগুলো গতকাল রোববার ভোর থেকেই মরে পানিতে ভেসে উঠছে। এ খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকার লোকজন রোববার সকাল থেকেই হাওর ও নদীর পাড়ে ভিড় জমান। যে যেভাবে পারছেন, সেভাবেই হাওর এবং নদীর তীরে ভাসমান রুই, কাতলা, বোয়ালসহ সকল জাতের মাছ ধরতে সক্ষম হচ্ছেন। অনেক দরিদ্র লোকজন এসব মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা কামাই করছেন । হাওর ও নদীতে এভাবে জীবন্ত মাছ তীরবর্তী স্থানে ভেসে আসার দৃশ্য সকলকে হতবাক করে দিয়েছে।
এসব মাছ ধরতে এবং দেখতে আসা লোকজন জানান, হাওরের ফসল পচে যাওয়ার কারণে পানি বিষাক্ত হয়ে ওঠায় মাছগুলো মরে যাচ্ছে । এভাবে আরো দুই/এক দিন গেলে হাওর ও নদীর সব ধরণের মাছ ও মাছের পোনা মরে যাবে। ফলে এ বছর হাওর ও নদীতে সকল জাতের মাছের বংশ বিস্তার ধ্বংস হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েকদিন আগে এ উপজেলার সবকটি হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এসব ফসল পচে হাওরের পানিতে সৃষ্ট বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নলুয়া, মইয়া ও পিংলার হাওরসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরের রুই, কাতলা, বোয়ালসহ ছোট-বড় সব ধরণের মাছ মরে পানির উপরে ভেসে উঠছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আবরার জানান, পানিতে ধান পচে এমোনিয়া গ্যাস সৃষ্টি হওয়ায় মাছগুলো মরে পানির উপরে ভেসে উঠেছে। এসব মাছ খেলে ক্ষতি হতে পারে এমন আশংকায় আক্রান্ত মাছগুলো না খাওয়ার জন্য আমরা সচেতনতামুলক মাইকিং করেছি। এছাড়া পানি দূষণমুক্ত করতে সরকারিভাবে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে হাওরে চুন ও ঔষধ প্রয়োগ করছি।
আপনার মন্তব্য