সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ এপ্রিল, ২০১৭ ১৮:০৪

‘প্রশিক্ষিত নেতাকর্মীরাই গণতন্ত্রের নিয়ামক’

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিলেট বিভাগীয় অফিসের আয়োজনে ইউএসএআইডি ও ইউকএইডরে যৌথ অর্থায়নে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সংস্কার প্রকল্পের সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে ‘ডেমোক্রেসি চ্যাম্পিয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সিলেটের রোজভিউ হোটেলে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ‘গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সংস্কার’ প্রকল্পের সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে এক টেবিলে বসেছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক ধারায় আনতে হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে হবে। এ মূল্যবোধ কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূলের মধ্যে তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছাত্র সংগঠনগুলোকে গনতন্ত্রমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু মাত্র কথামালার রাজনীতি না করে জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গুণগত মান বৃদ্ধি করলে করলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। প্রশিক্ষিত নেতাকর্মীরাই গণতন্ত্রে প্রধান নিয়ামক।

বক্তারা আরো বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জেলা উপজেলা কমিটি কেন্দ্র থেকে প্রেরিত ওহী নির্ভর। যারা তৃণমূলে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন তাদের কাজের কোন মূল্যায়ন হয় না। কেন্দ্রের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই কমিটিতে স্থান পায়। বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর মত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে স্থান পেতে হলে প্রতিটি নেতাকে কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করে আসার প্রথা চালু করতে হবে। তবেই তাদের কাছ থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রতিটি দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তাদেরও রাজনীতির সাথে সক্রিয় করাতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরো বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করার পর ভাল ছাত্র নেতা বেরিয়ে আসছে না। জাতীয় রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তারা।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অব্যাহত রাখার ব্যাপারে অনেক অভিমত দেন নেতারা। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিলেটের উর্ধ্বতন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সুদিপ্ত চৌধুরী ও সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুম এবং তারান্নুম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সংসদ সদস্য এড. শামছুন নাহার শাহানা রব্বানী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন।

ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা দলের হাইকমান্ড নির্ভর। কমিটি গঠন থেকে শুরু করে সব কার্যক্রম চলে উপরের নির্দেশনা মোতাবেক। ফলে সকল কাজে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চলে। যা একটি দলের জন্য খুবই লজ্জাজনক। এ ধরণের অভ্যাস থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব না রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সকলকে সার্বজনীনভাবে কাজ করে যেতে হবে।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে নারী নেতৃত্বের বিকাশ তার প্রমাণ। সকল দলের নেতাদের এমন মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশে গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে ছাত্র রাজনীতিকে মূল ধারায় আনতে হবে। এ লক্ষ্যে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগকে নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যাতে তারা আগামীতে সুন্দর দেশ উপহার দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এড হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর শাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান, সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সালমা সুলতানা, সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি পাপিয়া চৌধুরী, মহানগর সভাপতি অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, জেলা সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর সালেহা কবির শেপী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক এড. রোকসানা বেগম শাহনাজ। এছাড়া সিলেট মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, মহিলা আওয়ামী লীগ ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডি.আই.)‘গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সংস্কার’ (ডিপিআর) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দকে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করেছে। ডি.আই এর সিলেট আঞ্চলিক অফিসের আয়োজনে, “ডেমোক্রেসি চ্যাম্পিয়নস” শীর্ষক সম্মেলনে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। একই সাথে পাঁচ বছর মেয়াদী নতুন আরেকটি প্রকল্প ‘স্ট্রেনথদেনিং পলিটিকাল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ’/ `Strengthening Political Landscape in Bangladesh’ (SPL) এর উদ্বোধন ও এর ক্ষেত্র ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত