সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২৩ এপ্রিল, ২০১৭ ০৯:০০

হাওরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তা নেই: আণবিক শক্তি কমিশন

হাওরের পানি দূষিত হওয়ার পেছনে ইউরেনিয়ামের প্রভাব রয়েছে কীনা তা পরীক্ষা করে দেখেছে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন। কমিশনের পরীক্ষায় সুনামগঞ্জের হাওরের পানিতে প্রাথমিকভাবে তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং স্বাভাবিকভাবে যে ধরনের তেজস্ক্রিয়া পরিবেশে থাকে হাওরে তার চেয়েও অনেক কম রয়েছে।

রোববার (২৩ এপ্রিল) সকালে সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের পরীক্ষা শেষে এ তথ্য দিয়েছেন আণবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. দিলীপ কুমার সাহা।

সুনামগঞ্জের হাওরে মাছ এবং জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রভাব আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে শনিবার রাতে সুনামগঞ্জে পৌঁছায় আণবিক শক্তি কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল।

আণবিক শক্তি কমিশনের সদস্য ড. দিলীপ কুমার সাহার নেতৃত্বে থাকা এ দলের অন্যান্য দুই সদস্য হলেন- ড. বিলকিস আরা বেগম এবং কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেবাশীস পাল।

প্রতিনিধি দলটি সকালে কাজ শুরু করেন সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে। পানিতে নেমে দীর্ঘক্ষণ তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করেন।

পরে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দিলীপ কুমার সাহা সাংবাদিকদের জানান, দেখার হাওরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ পাননি তারা।

তিনি বলেন, পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে ০.২০ মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা থাকে সেক্ষেত্রে হাওরে রয়েছে ০.১০ যা প্রায় অর্ধেক।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, শনিবার ৭ সদস্যের একটি দল ৫টি হাওর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পৌঁছেছে তা রোববার পরীক্ষাগারে বিশদভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে মাছ এবং জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার কারণটা কি? এবং এতে তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রভাব আছে কি না।

তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণী মারা যায় না। এ ছাড়া মানুষের মধ্যেও যে প্রভাব দেখা দেবে বিশেষ করে মাথা ঘোরানো এবং বমি বমি ভাব এরকম কোনো তথ্যই তারা হাওর অঞ্চল থেকে এখনও পাননি। পরে প্রতিনিধি দল আরো কয়েকটি হাওর পরিদর্শন করেন বলে জানান ড. দিলীপ কুমার সাহা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত