২৪ এপ্রিল, ২০১৭ ০১:২৭
সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে একটি পাথর ভাঙ্গার কলে (স্টোন ক্রাশার মেশিন) কাজ করেন জহুরা বেগম (৩৮)। কাজ করতে গিয়ে যন্ত্রের নিচে চাপা পড়ে দুই টুকরো হয়ে যায় তাঁর ডান হাত। দুর্ঘটনার প্রায় ১০ ঘন্টা পর জহুরা বেগম ও তাঁর টুকরো হয়ে যাওয়া হাতের অংশ নিয়ে আসা হয় সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে।
সেখানকার চিকিৎসকরা প্রায় পাঁচঘন্টা অস্ত্রপচার চালিয়ে জহুরার টুকরো হওয়া হাত জোড়া লাগাতে সক্ষম হন। ওসমানী হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হলো এমন অস্ত্রপচার।
আধুনিক যন্ত্রপাতির নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এতো বড় একটি অস্ত্রপচার সফলতার সাথে সম্পন্ন করাকে সিলেট অঞ্চলের চিকিৎসাসেবা সেবার জন্য একটি মাইলফলক বলে মনে করেন অস্ত্রপচারে নেতৃত্বদানকারী চিকিৎসক ডা. হাসিব রহমান।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. হাসিব রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে রোববার রাতে বলেন, জহুরা বেগমের শারিরীক অবস্থা এখন অনেকটা উন্নতির পথে। তার জোড়া লাগানো হাত শতভাগ কাজ না করলেও অনেকটাই কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডা. হাসিব বলেন, আমাদের এখানে তো তেমন কোনো সার্পোট নেই। তারউপর দুর্ঘটনা ঘটনা প্রায় ঘন্টা পরে রোগী আমাদের কাছে এসেছে। ফলে এই অস্ত্রপাচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারা অবশ্যই বিশেষ কিছু।
ওসমানী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে জাফলংয়ে পাথর ভাঙ্গার কলে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন জহুরা বেগম। দূর্ঘটনাবশত মেশিনের ভেতর চলে যায় তার ডান হাত। মুহূর্তেই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে হাতটির কনুই থেকে নিচের অংশ।
ওই দিন রাতে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় জহুরাকে। সেখান থেকে । জরুরি বিভাগ থেকে তাকে স্থানান্তর করা হয় প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে। রাত ১০টার দিকে শুরু হয় অস্ত্রপচার। বিভাগটির প্রধান ডা হাসিব রহমান ও ডা. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে ভোর ৩ টা পর্যন্ত ৫ঘন্টাব্যাপী চলে অস্ত্রপচার। এতে তাদের সহায়তা করেন ডা. সুবাল, ডা. ইকবাল, ডা. আব্দুল লতিফসহ ও দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা।
ডা. হাসিব বলেন, অস্ত্রপচারে জহুরা বেগমের কাটা পড়া হাতের হাড় পুনঃসংযোগ ও স্নায়ু-রক্তনালিকার পুনঃসংযোগ (নিউরোভাসকুলার এনাস্টোমোসিস) করা হয়। রক্তনালিকায় রক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করে তারা আরেকটি সফল অপারেশন শেষ করেন।
আহত জহুরা বেগম বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তার স্বামী কদর আলি, যিনি নিজে ওই পাথর ভাঙ্গার মিলে কাজ করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে আমার স্ত্রীর হাত জোড়া লাগানো সম্ভব হয়েছে।
এই হাত জোড়া লাগার আশা তিনি ছেড়ে দিয়েছেলিন বলেন জানান কদর আলী।
কদর আলী বলেন, আমাদের সাত মেয়ে। এরমধ্যে বড় দুই মেয়েসহ আমরা স্বামী-স্ত্রী ওই মিলে কাজ করি। ক্রাশার মিল মালিক স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য