২৪ এপ্রিল, ২০১৭ ১৭:০১
সিলেটের শিববাড়িতে আলোচিত আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের এক মাস আজ। জঙ্গি আস্তানা হিসাবে চিহ্নিত করে গত ২৪ মার্চ থেকে আতিয়া মহলে চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান। প্রথমে পুলিশ, পরে সোয়াট ও শেষে চূড়ান্ত অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। ৫ দিনের ওই অপারেশন পরিচিত হয় 'অপারেশন টোয়াইলাইট' নামে।
দীর্ঘ অভিযান ও নিরাপত্তাজনিত কার্যক্রম শেষে গত ১১ এপ্রিল ওই মহলের বাসিন্দাদের বাসা ও মালামাল বুঝিয়ে দেয় প্রশাসন। নিজেদের ঘরে উঠতে শুরু করেন বাসিন্দারা।
অভিযানের একমাস পার হওয়ার পর এখন স্বাভাবিক এলাকার পরিস্থিতি। কেটে গেছে আতঙ্ক। তবে কমে নি কৌতুহল। যারা এতোদিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় ভবনটির কাছে যেতে পারেন নি, তারা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেতে সেখানে যাচ্ছেন।
গত কয়েকদিনও দেখা গেছে, আতিয়া মহল দেখতে ভীড় করছেন প্রচুর কৌতুহলী মানুষ। আতিয়া মহল দেখতে আসা নুজহাত চৌধুরী জানান, অনেক শুনেছি এই মহলের কথা, টিভিতেও দেখেছি। আজ বাস্তবে দেখতে এসেছি এর ধ্বংসাবশেষ।
অনেক দূর-দুরান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব নিয়েও অনেকে দেখতে আসছেন এই আতিয়া মহল। ক্যামেরাবন্দি করছেন আলোচিত এই ভবনের ছবি।
ভবনটি দেখতে আসা আল মাসুদ শামু বলেন, খুব কাছে থেকেই এই ঐতিহাসিক মহল দেখলাম। সাথে একটা ছবিও তুললাম এই ভয়াবহ মহলের সাথে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিতা রাণী দাস জানান, আমার বাড়ি আতিয়া মহলের পাশেই। অভিযান চলার সময় এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। আজ খুব কাছে থেকে দেখলাম। কিছুটা ভয় করছে। মহলটা দেখে খুব অবাক লাগছে।
গত ২৩ মার্চ মধ্যরাতে এই আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। ওই রাত থেকে ভবনটি ঘিরে রাখার পর ২৫ মার্চ সকাল থেকে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নাম দিয়ে অভিযানে নামে সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডো। প্রথমে আতিয়া মহলের ৩০টি ফ্ল্যাটে আটকে পড়া ২৮ টি পরিবারের ৭৮ জন সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে শুরু হয় জঙ্গিবিরোধী অভিযান।
২৮ মার্চ অভিযান শেষে চার জঙ্গি নিহতের খবর জানায় সেনাবাহিনী। ২৫ মার্চ আতিয়া মহলের বাইরে বিস্ফোরণে র্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত হন।
আপনার মন্তব্য