নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ এপ্রিল, ২০১৭ ১৬:৪২

কড়া নিরাপত্তা পেরিয়ে স্কলার্সহোমে কিভাবে এলো বোমা?

বরাবরই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢাকা থাকে সিলেটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোমের ক্যাম্পাসগুলো। শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসও এর ব্যতিক্রম নয়। ক্যাম্পাসের ভেতরে-বাইরে স্থাপন করা আছে সিসিটিভি ক্যামেরা। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময়ও যেতে হয় নিরাপত্তারক্ষীর তল্লাশি পেরিয়ে। অভিভাবকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না মূল ভবনে। এমন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পেরিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর কিভাবে এলো বোমাটি- দেখা দিয়েছে এমন প্রশ্ন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্কলার্সহোমের অধ্যক্ষ জোবায়ের সিদ্দিকী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী আছে। কেউ হয়তো বইয়ের ব্যাগে করে এনে এটি রেখে দিয়েছে। মজা করার জন্য রাখতে পারে অথবা এর মধ্যে কেউ মোটিভেটেডও হয়ে থাকতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত হতে ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

এরপর দুপুরে জোবায়ের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, ক্যাম্পাস জুড়ে সবসময় নিরাপত্তা জোরদার থাকে। এমনকি মূল ভবনের ভেতরে অভিভাবকসহ কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ক্লাসে কোনও শিক্ষার্থী প্রবেশ করার সময় তাদেরকে চেকিং (পরীক্ষা) করে প্রবেশ করানো হয়। তাই এ ঘটনা বাইরের কারও ঘটানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ র‌্যাবের সদস্যরা সংগ্রহ করেছেন। ক্যাম্পাসের মূল ভবনের সিঁড়ির পাশে কে বা কারা বোমাটি রেখে গেছে তা ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। পরিচ্ছন্নকর্মীরা পরিষ্কার করার সময় এটি দেখতে পান। এটা কালো পলিথিন দিয়ে প্যাকেট করা ও লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো।

এদিকে, প্রাথমিক পরীক্ষার পর র‌্যাব-৯ এর উপ অধিনায়ক মেজর জমসেদুর রহমান বস্তুটিকে শক্তিশালী বোমা উল্লেখ করে জানান, এটি শক্তিশালী এক্সপ্লোসিভ হতে পারে। তিনি বলেন, সিঁড়ির নিচে পড়ে থাকা বস্তুটির আশপাশে অনেক ক্যাবল ও সার্কিট রয়েছে। র‌্যাব-৯ এর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি পরীক্ষার জন্য ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে র‌্যাবের বোমা বিশেষজ্ঞ টিম। তারা আসলে বস্তুটি বিস্ফোরক কী না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

র‍্যাবের উপ অধিনায়ক সিলেটটুডেকে বলেন, সিঁড়ির নিচে যেখানে বোমাটি রাখা হয়েছে, তা সিসিটিভি ক্যামেরা আওতার বাইরে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ সিঁড়ির নিচে একটি বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ও র‌্যাব।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত