নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:৩৭

বন্ধের দিনেও খোলা স্কলার্সহোম, উড়েনি জাতীয় পতাকা

শবে মেরাজ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। তবে ব্যতিক্রম সিলেটের স্কলার্সহোম। বেসরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি খোলা ছিলো মঙ্গলবারও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক হলেও মঙ্গলবার স্কলার্সহোমের শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয় নি। এই ক্যাম্পাসে নিয়মিত জাতীয় সঙ্গীতও গাওয়া হয় না।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে স্কলার্সহোমের শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসেই বোমার সন্ধান মিলে। যা নিষ্ক্রিয় করতে ঢাকা থেকে এসেছে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। বুধবার সকালে তারা অভিযান চালাবে।

খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের ধারণা, এখানকার শিক্ষার্থীরাই এই বিস্ফোরকটি ক্যাম্পাসে রাখতে পারে। এমনটি সন্দেহ র‍্যাবেরও।

বোমা সদৃশ বস্তু পড়ে থাকার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে স্কলার্সহোমের শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, উত্তোলন করা হয় নি জাতীয় পতাকা। জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ড খালি থাকতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কলার্সহোমে মাঝে মাঝে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অন্য অনেক দিনের মত  মঙ্গলবারও উঠে নি জাতীয় পতাকা।


জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) জুবায়ের সিদ্দিকী বলেন, আইনে আছে বৃষ্টি আসলে জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। কারণ জাতীয় পতাকা ভিজলে অসম্মান হয়। তাই মঙ্গলবার বৃষ্টি থাকায় জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

তবে জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০) তে অধ্যক্ষের কথার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এই বিধিমালার কোথাও বৃষ্টি সংক্রান্ত বিষয়ের উল্লেখ দেখা যায়নি।

বৃষ্টির কারণে পতাকা নামানোর বিষয়ে আইনের কোথাও উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিনও।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, স্কলার্সহোমে প্রতিদিন শরীরচর্চা (এসেম্বলি) হয় না। জাতীয় সঙ্গীতও গাওয়া হয় না। মাসে দুই-একবার পূর্ব ঘোষণা দিয়ে এগুলো করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, এসেম্বলির জন্য কোন জায়গাও নেই স্কুলটির ভেতরে।

স্কলার্সহোমের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হাফিজ মজুমদার ট্রাষ্টের অধীনে পরিচালিত হয়। এ ট্রাষ্ট ১৯৮৫ সালে গঠিত হয়। হাফিজ আহমদ মজুমদার আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটকে নিয়ে গড়া সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন, ছিলেন পূবালী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যানও।

সিলেট নগরীতে স্কলার্সহোমের ছয়টি ক্যাম্পাস রয়েছে। শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়।

স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জুবায়ের সিদ্দিকী। তিনি জামায়াত অনুসারী শিক্ষাবিদ হিসেবে সিলেটে পরিচিত।

বরাবরই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢাকা থাকে স্কলার্সহোমের ক্যাম্পাসগুলো। শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসও এর ব্যতিক্রম নয়। ক্যাম্পাসের ভেতরে-বাইরে স্থাপন করা আছে সিসিটিভি ক্যামেরা। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময়ও যেতে হয় নিরাপত্তারক্ষীর তল্লাশি পেরিয়ে। অভিভাবকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না মূল ভবনে। এমন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পেরিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর কিভাবে এলো বোমাটি- দেখা দিয়েছে এমন প্রশ্ন।


এ ব্যাপারে স্কলার্সহোমের অধ্যক্ষ জোবায়ের সিদ্দিকী বলেন, এখানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী আছে। কেউ হয়তো বইয়ের ব্যাগে করে এনে এটি রেখে দিয়েছে। মজা করার জন্য রাখতে পারে অথবা এর মধ্যে কেউ মোটিভেটেডও হয়ে থাকতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত হতে ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

জোবায়ের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, ক্যাম্পাস জুড়ে সবসময় নিরাপত্তা জোরদার থাকে। এমনকি মূল ভবনের ভেতরে অভিভাবকসহ কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ক্লাসে কোনও শিক্ষার্থী প্রবেশ করার সময় তাদেরকে চেকিং (পরীক্ষা) করে প্রবেশ করানো হয়। তাই এ ঘটনা বাইরের কারও ঘটানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ র‌্যাবের সদস্যরা সংগ্রহ করেছেন। ক্যাম্পাসের মূল ভবনের সিঁড়ির পাশে কে বা কারা বোমাটি রেখে গেছে তা ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। পরিচ্ছন্নকর্মীরা পরিষ্কার করার সময় এটি দেখতে পান। এটা কালো পলিথিন দিয়ে প্যাকেট করা ও লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো।

এদিকে, প্রাথমিক পরীক্ষার পর র‌্যাব-৯ এর উপ অধিনায়ক মেজর জমসেদুর রহমান বস্তুটিকে শক্তিশালী বোমা উল্লেখ করে জানান, এটি শক্তিশালী এক্সপ্লোসিভ হতে পারে। তিনি বলেন, সিঁড়ির নিচে পড়ে থাকা বস্তুটির আশপাশে অনেক ক্যাবল ও সার্কিট রয়েছে। র‌্যাব-৯ এর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি পরীক্ষার জন্য ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে র‌্যাবের বোমা বিশেষজ্ঞ টিম। তারা আসলে বস্তুটি বিস্ফোরক কী না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

র‍্যাবের উপ অধিনায়ক সিলেটটুডেকে বলেন, সিঁড়ির নিচে যেখানে বোমাটি রাখা হয়েছে, তা সিসিটিভি ক্যামেরা আওতার বাইরে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত