২৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:২৮
গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ২, ৩ ও ৪ নং কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ করে এ কেন্দ্রগুলোতে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় পৌরশহরস্থ তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবু নাসের পিন্টু বলেন, গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ছিলাম। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ প্রতীক্ষার পর আমাদের এই পৌরসভা নির্বাচন এসেছিল। আমি ব্যক্তিগত এবং দলীয়ভাবে মনে করেছিলাম, আমাদের এই বহু আকাঙ্খিত নির্বাচন সুষ্টু এবং স্বাভাবিক হবে। আরো আশান্বিত ছিলাম, যেহেতু আমাদের এই পৌরসভা বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবের নিজ এলাকা, সেহেতু নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের আকাঙ্খিত পৌর নির্বাচনের দিন বর্তমান সরকারের প্রশাসনের যোগসাজসে নৌকা মার্কার সমর্থকরা একক আধিপত্য বিস্তার করে ২, ৩ ও ৪নং কেন্দ্র দখল করে আমার এবং অন্যান্য প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে দেদারছে জাল ভোট প্রদান করে। এতে আমার এবং অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থক ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। আমি এই অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী পন্থার তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে যে কোন মূল্যে বিজয়ী করার হীন প্রয়াসে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার অপপ্রয়াস চালানো হয়। উক্ত নির্বাচনে উল্লেখিত ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের যোগসাজসে জাল ভোটের মহোৎসব চালানো হয়। জাল ভোট ও টেবিল কাস্টিংসহ নানা অপকৌশলের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত ও অগ্রহণযোগ্য করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগের সত্যতার ভিডিও ক্লিপও আমাদের কাছে রয়েছে। এ অবস্থায় জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর স্বার্থে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমি পৌরসভার ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বাতিল পূর্বক পূনঃনির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। এখানে উল্লেখ্য যে, ৩ নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রে অতিরিক্ত অনিয়ম এবং জাল ভোট প্রদানের কারণে ঐ কেন্দ্রের ফলাফল ইতিমধ্যে স্থগিত করে ভোট বাতিলের ঘোষণা করা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট ১০টি বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রে জোরপূর্বক আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সকাল থেকে জাল ভোট প্রদান করা হয়। এ সময় আমার এজেন্ট বাঁধা দিলে তাদেরকে জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে দুপুর ২.৩০ মিনিট এর সময় ৪ নং ওয়ার্ডের খাসা কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে, রিটার্নিং কর্মকতা বরাবরে দরখাস্ত দেই। যার রিসিভ কপি আমাদের কাছে আছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবু নাসের পিন্টু বলেন, আপনারা দেখেছেন নৌকার প্রার্থীর নেতৃত্বে ৩নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র দখল করে টেবিল কাস্টিংয়ের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে গিয়ে চ্যানেল ২৪ এর ক্যামেরাপার্সন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও ক্যাডারবাহিনী কর্তৃক লাঞ্ছিত হয়েছেন। আমি নিজে উপস্থিত হয়ে এ কেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলে তিনি বিষয়টি আমলে নেননি। উল্টো কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার ও উক্ত কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে এ কেন্দ্র থেকে চলে যেতে চাপাচাপি করেন। জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, উপরের নির্দেশ আছে। এখানে বেশি সময় আপনি থাকতে পারবেন না।
আপনার মন্তব্য