৩০ এপ্রিল, ২০১৭ ১২:৪২
ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর পাশে আছেন জানিয়ে আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীকে ধানের সঙ্গে সঙ্গে গো–খাদ্যও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওরাঞ্চলের দুর্দশা পরিদর্শনে এসে হাওরবাসীকে আশ্বস্ত করতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টার কিছু পরে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
উপজেলা সদরের একটি স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, "চিন্তা করবেন না। সবসময় আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের খবর প্রতিনিয়ত রাখছি। মন্ত্রী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনাদের জন্য কাজ করছে।"
তিনি বলেন, "হাওর অঞ্চলে কৃষিঋণ আদায় করা হবে না এবং সুদের হার অর্ধেক করা হবে।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বেসরকারি অনেক সংস্থা কৃষিঋণ দিয়েছে। তারা সুদ আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। সুদ আদায়ের জন্য দুর্যোগে পড়া মানুষের ওপর যেন চাপ দেওয়া না হয়, এনজিওগুলোকে সে নির্দেশ দেওয়া হবে।"
হাওর অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ত্রাণ কর্মসূচি যাতে সঠিকভাবে চলে, সেদিকে লক্ষ রাখবেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে ওএমএস এর ডিলার নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। ভিজিএফ কার্ডের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি মেরামত করে দিতে সরকার ব্যবস্থা নিবে।"
জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাঁধ নির্মাণে কারও গাফিলতি থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাওরে কীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা যায় বা এতে প্রাকৃতিক ক্ষতি হবে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।"
হাওরে ফসল নষ্ট হওয়ার অজুহাতে একশ্রেণির ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, "ফসল নষ্ট হয়েছে হাওরে। খাদ্যের মজুত আছে। কম পড়লে আমদানি করা হবে। কিন্তু খাবারের কষ্ট হবে না। কেউ কালোবাজারি করলে ব্যবস্থা নেব।"
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ যেন কষ্ট না পায়, এই লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে। আমরা ক্ষমতায় থাকলে আপনাদের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে না।"
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল হক, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এবং দিরাই-শাল্লার সাংসদ জয়া সেনগুপ্ত।
আপনার মন্তব্য