০২ মে, ২০১৭ ১৮:২২
অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলকে ছয় মাসের জন্য দুর্গত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ত্রাণ কমিটির প্রধান আব্দুল্লাহ আল নোমান। মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জের জানিগাঁও গ্রামে বিএনপি নেতা লক্ষণ শ্রী ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ৯ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হোক, জেলার সকল ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডে অবিলম্বে পর্যাপ্ত পরিমাণে কম মূল্যে চাল বিক্রি করতে হবে, ভিজিএফ-ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মেয়াদ বাড়াতে হবে, সকল কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ ও নতুন ঋণ প্রদান করতে হবে, এ বছর কৃষি জমির খাজনা মওকুফ করতে হবে, সকল জলমহালের ইজারা প্রথা বাতিল করে সকলকে মৎস্য আহরণের সুযোগ দিতে হবে, সকল সরকারি-বেসরকারি ঋণ আদায় স্থগিত করতে হবে, হাওরে বাঁধ নির্মাণে লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং হাওর উন্নয়নে হাওরের আলাদা বৈশিষ্ট অনুযায়ী পরিবেশ বান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আসপিয়া, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন প্রমুখ। পরে ত্রাণ কমিটির নেতৃবৃন্দরা দেখার হাওরের পাড়ে সলিমপুর ও কানলার হাওরের পাড়ে ভল্লবপুরে ত্রাণ বিতরণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জের হাওরপারের গ্রাম ছলিমপুরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিএনপির পক্ষ হতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
এসময় আবদুল্লাহ আল নোমান হাওরে বাঁধ নির্মাণে যে অনিয়ম হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিন ওই গ্রামের ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় কৃষকদের মধ্যে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ৫ কেজি পেঁয়াজ, এক লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি লবণ দেয়া হয়। এরপর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের বল্লবপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
বিএনপি দুর্গতদের পাশে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আদেশে আমরা সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল গত দুইদিন ধরে হবিগঞ্জের বানিয়াচং দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছি।
আপনার মন্তব্য