হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

০৯ মে, ২০১৫ ১৯:৩৬

সোনাই নদী ভরাট করে কমপ্লেক্স নির্মাণ রুখে দাঁড়ানোর আহবান

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এক এক করে হারিয়ে যাচ্ছে এককালের খরস্রোতা নদীগুলো। মাধবপুরের সোনাই নদীও আজ দখলদারদের অপতৎপরতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সোনাই নদীর বিশাল একটি অংশ ভরাট করে সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চলেছে একটি শিল্প পরিবার। নদীটি হারিয়ে গেলে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে মাধবপুর তথা হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। তাই সোনাই নদী ভরাট করে কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিবাদে পরিবেশ সচেতন সকল মানুষকে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার সকাল ১১টায় শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা একথা বলেন।

মাধবপুরে সোনাই নদী ভরাট করে সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত এ মানববন্ধনে ধারণা বক্তব্য রাখেন খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার ও বাপা’র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাপা সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবিদুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি শোয়েব চৌধুরী, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ, বাপা যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান নিয়ন, নদী ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব চৌধুরী আহসানুল হক সুজা, এডভোকেট বিজন বিহারী দাশ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মী আসমা খানম হ্যাপি, বাপা যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকী হারুন, নায়েবের পুকুর রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম চৌধুরী, সমন্বয়কারী আব্দুর রকিব রণি, এডভোকেট শিবলী খায়ের, রোটারিয়ান আনোয়ার হোসেন, নাট্যকর্মী মোক্তাদির হোসেন, শেখ উসমান গণি রুমি প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে মাধবপুরে সোনাই নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে নদীর এক বিশাল অংশ ভরাট করে সায়হাম গ্রুপ ‘সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তখন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য আন্দোলন শুরু করে। সংগঠনটির আন্দোলনের যৌক্তিকতা অনুধাবন করে জাতীয় নদী টাস্কফোর্সের সভায় সোনাই নদীর ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে নদীর স্বাভাবিক নদীপথ সচল রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে দফায় দফায় সভায় নির্মাণ কাজ স্থগিত করে পানি আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এসব সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। উপরন্তু জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ফিউচার কমপ্লেক্স নির্মাণের পক্ষে একটি প্রতিবেদন দেয়। এ প্রতিবেদন নদী প্রেমিক ও পরিবেশবাদী মানুষকে চরমভাবে হতাশ করেছে। মানববন্ধনে অবিলম্বে কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে নদীর প্রবাহকে সচল রাখার দাবি জানান বক্তারা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত