১২ মে, ২০১৫ ১২:১২
যুক্তি সম্পাদক, বিজ্ঞান লেখক, মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে খুন করে খুনীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। আশপাশে জনতা উপস্থিত থাকলেও তাঁকে কোপাতে দেখে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে অনন্ত বিজয় দাশ তাঁর কর্মস্থল পুবালী ব্যংকে যাওয়ার পথে বাসা থেকে কয়েকশ’ মিটার অদূরে সিলেট শহরের সুবিদবাজার এলাকার বনকলাপাড়ায় জঙ্গি সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে খুন হন। সন্ত্রাসীরা তাঁর মাথায় এলোপাথাড়ি কুপাতে থাকলে ঘটনাস্থলে মগজ ছিটকে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে বরাত দিয়ে একজন পথচারী জানান, খুনিরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর এলাকা ত্যাগ করে। তাঁর মাথার পেছন, পাশ দিক এবং ঘাড়ে একাধিক কোপের আঘাত রয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমত উল্লাহ জানান, সকালে অনন্ত সুবিদ বাজার এলাকায় তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অনন্তকে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
অনন্ত বিজয় দাশ ছিলেন বিজ্ঞান বিষয়ক ছোট কাগজ ‘যুক্তি’ সম্পাদক। তাঁর লিখিত বিজ্ঞানভিত্তিক একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব: লিসেঙ্কো অধ্যায়’, ‘জীববিবর্তন সাধারণ পাঠ’, ‘ডারউইন: একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা’।
এদিকে, অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকাণ্ডের পর সিলেটের স্থানীয় ব্লগার ও এক্টিভিস্টরা ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে এক বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তারা অভিযোগ করে বলেন- একের পর এক মুক্তমনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লোকদের হত্যার পরও প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই। অভিজিৎ রায়, ওয়াশীকুর বাবুকে যে কায়দায় হত্যা করা হয়েছে ঠিক একইভাবে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যা করা হয়েছে। পূর্বে যদি হত্যাকারীরা শাস্তি পেত তাহলে এভাবে অনন্ত বিজয়কে খুন হতে হতো না।
তারা অবিলম্বে অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, অনন্ত বিজয় দাশ দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন মৌলবাদী জঙ্গি সন্ত্রাসীদের টার্গেট। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত জঙ্গিদের হিটলিস্ট তাঁর নাম ছিল বলে জানা যায়। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ কর্ম বিষয়ে মাস্টার্স করার পর সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজারে পূবালী ব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসাবে যোগ দেন। ২০০৬ সালে তিনি মুক্তমনা র্যাশনালিস্ট অ্যাওয়ার্ড পান।
আপনার মন্তব্য