০৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ১৯:০০
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় এখনও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি পুরোদমে। যে প্রকল্প গুলোতে কাজ শুরু হয়েছে তাতে দুর্মুজ দেওয়া হচ্ছেনা। লাগানো হচ্ছেনা প্রাক্ষলণের সাইনবোর্ড। এতে করে বাঁধের কাজে এবারও অনিয়ম ও দুর্নীতির শঙ্কায় আছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১০০টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার সর্ববৃহৎ পাকনার হাওরে ৩টি ইউনিয়নেই অধিকাংশ প্রকল্প।
সরেজমিন দেখা গেছে, এ হাওরের ২৫ নং পিআইসি গজারিয়া ও কামধরপুর গ্রামের মধ্যবর্তী কয়েকটি ছোট ভাঙ্গা ও একটি বড় ক্লোজার নির্মাণের কাজ কয়েকদিন ধরে শুরু হয়েছে। দৈর্ঘ্য, প্রস্থ উচ্চতাসহ আনুষঙ্গিক পরিমাপের ২০ ভাগ কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ২৬ নং প্রকল্পের আংশিক কাজ করা হয়েছে দুর্মোজ বিহীন। ২৭-৩২ নং পর্যন্ত প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ৩৩ ও ৩৪ নং প্রকল্পের কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছে। এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন পিআইসিতে যাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছে তাদের অনেকই অ-কৃষক। তাছাড়া কাজও তারা প্রাক্ষলণ অনুযায়ী করছেন না।
ছয়হারার কৃষক সাধন দাস বলেন, পাকনার হাওরের পানি এবার বিলম্বে নেমেছে। তাছাড়া অনেক পিআইসি এখনও কাজ শুরু করেনি। কোন বাঁধে কত টাকা বা কিভাবে কাজ হবে সেটা জানারও সুযোগ নেই কৃষকের। প্রকল্প এলাকায় এখনও কোন সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি বলে জানান তিনি।
অপর দিকে হালির হাওরের বিভিন্ন বাধ সরেজমিন দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের কাজ চলছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাওর রক্ষার জন্য সকল বাঁধেরই কাজ করতে হবে, তবে আগে ক্লোজারগুলোর কাজ শেষ না করলে পানি আসলেই বিপদ হতে পারে।
হালির হাওর ৬৬ ও ৬৭ উন্নয়ন প্রকল্প লালুর গোয়ালার পিআইসি প্রণব কান্তি রায় পিলু ও মো. খোকন মিয়া বলেন, আমরা শ্রমিক, এক্সেলেটার ও নৌকা দিয়ে বাঁধের মাটি ভরাটের কাজ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত করছি। আশা করি ২৮ ফেব্রুয়ারির পূর্বেই কাজ সম্পন্ন হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আল ইমরান বলেন, পানি বিলম্বে নামার কারণে যথাসময়ে প্রাক্ষলণ না হওয়ায় কাজ কিছুটা বিলম্বে শুরু হয়েছে। তবে বেশিরভাগ প্রকল্পেই কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, সবগুলো প্রকল্পেই সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর কথা রয়েছে। যথা সময়েই কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আপনার মন্তব্য