নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ০০:০৬

ধরপাকড়ে আতঙ্ক, তবু সিলেটে মাঠে থাকার ঘোষণা বিএনপির

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপের হাওয়া এসে লেগেছে সিলেটেও। রায়কে কেন্দ্র করে গত ক'দিন ধরেই চলছে পুলিশি অভিযান। ধরপাকড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে সিলেট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবু আজ (বৃহস্পতিবার) মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। রায় বিরুদ্ধে গেলে রাজপথে জবাব দেয়ার কথাও জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

আর পুলিশ বলছে, কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। বিভিন্ন মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গতকাল সকাল থেকে পুরো সিলেটে নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোড়ে গাড়ি তল্লাশি, দূরপাল্লার বাসে তল্লাশি চালানো হয় দিনভর। আজ ভোর থেকে পুলিশ নগরীর প্রতিটি মোড়ে অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের কর্তারা।

আর বিএনপির পক্ষ থেকে রায়কে কেন্দ্র করে আগাম কোন কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও জেলা ছাত্রদল সভাপতি সাঈদ আহমদ বুধবার ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন- ‌'আগামীকাল হয় লাশ না হয় ইতিহাস'

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এ মামলায় প্রধান আসামি হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। দোষী প্রমাণিত হলে তাহলে তাঁকে কারাগারে যেতে হতে পারে।

এদিকে এ রায়কে কেন্দ্র করে দেশে ফের সংঘাতময় রাজনীতির আশংকা দেখা দিয়েছে। আর রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে শুরু হয়েছে পুলিশের ধরপাকড়। পুরো দেশের ন্যায় সিলেট নগরী ও সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলোতেও চলছে ধরপাকড়। ইতোমধ্যে অর্ধশত নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে দাবি করছেন বিএনপি নেতারা। যার মধ্যে শুধু সিলেট জেলায়ই রয়েছেন ২৬ জন নেতাকর্মী। বুধবার সিলেট মহানগর পুলিশ নগরী থেকে ৯ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে বলে জানা যায়।

নাশকতা প্রতিরোধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই পুলিশ মাঠে নেমেছে। এদিকে, নিরাপত্তার স্বার্থে বুধবার সকাল থেকে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে চালানো হয় ব্যাপক তল্লাশি। নগরীতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

খালেদার রায় নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে। তবে কেউ কেউ কোন ধ্বংসাত্মক কাজে না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম জানান, নগর ও জেলাজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সবাই রয়েছে আটক আতংকে। এ অবস্থায় আগাম কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে ধরপাকড় আরও বাড়তে পারে। এ জন্য কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র হিসেবে সরকার এ মামলার রায় প্রদান করতে যাচ্ছে। এ মামলাকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা উল্লেখ করে তিনি বলে, এ মামলাতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ফাঁসানো হয়েছে। যদি ন্যায়বিচার পরিপন্থী কোন রায় আসে তাহলে সাংগঠনিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব এবং রাজপথেও তা মোকাবেলা করব।

এদিকে, খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে কোনো ধরণের নাশকতামূলক পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ অবস্থান নেবে।

ধরপাকড় বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে অযথা কাউকেই হয়রানি করা হচ্ছে না। শুধু মামলার আসামিদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং তাদেরকে খুঁজে বের করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, কেউ নাশকতা করার চেষ্টা করলে শক্ত হাতে তাদের দমন করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুলিশ অবস্থান নেবে।

খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে সিলেটে ৬ প্লাটুন বিজিবি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার।

তিনি বলেন, সিলেট নগরীর জন্য ৪ প্লাটুন ও জেলার জন্য ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলেই তাদের মাঠে নামানো হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত