১২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ১৫:১১
শীতের শুরুতেই 'টমেটোর রাজ্য' হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জমি থেকে উঠতে শুরু করে উন্নত জাতের হাইব্রিড টমেটো। কিন্তু দাম নিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও টমেটোর ভাল দাম না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন তারা।
সরেজমিনে জেলার মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মণ প্রতি কাঁচা টমেটো ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে উৎপাদিত মোট শীতকালীন টমেটোর বিরাট একটি অংশ উৎপাদন হয় মাধবপুরে। চলতি মৌসুমে এখানে ২৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের শীতকালীন টমেটো চাষ হয়েছে। গত বছর ২৩০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন টমেটোর চাষ হয়েছিল।
উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের টমেটো চাষী ফরিদ মিয়া জানান, গত বছর এ সময় মণ প্রতি কাঁচা টমেটো ৯০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এ বছর মৌসুমের শুরুতেই মণ প্রতি কাঁচা টমেটো ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আর কিছু দিন পর টমেটোর দাম আরও অর্ধেক নেমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
উপজেলার শাহজালালপুর গ্রামের টমেটো চাষী হানিফ মিয়া বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ৩ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। বৃহস্পতিবার তার জমি থেকে প্রথম দফায় ৫ মণ টমেটো উঠেছে। প্রতি মণ টমেটো বিক্রি করেছেন ২০০ টাকায়। পরবর্তীতে আরও বেশি পরিমাণে টমেটো উঠবে তার জমিতে। কিন্তু প্রথম দিকেই টমেটোর দাম দেখে হতাশায় ভুগছেন তিনি।
গাজীপুর গ্রামের টমেটো চাষী হারুন মিয়া জানান, টমেটোর গাছে প্রচুর ফুল আসছে। এ অবস্থায় টমেটোর ভাল দাম না পেলে কৃষকরা নিশ্চিত ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে মনে করেন তিনি।
হরিণখোলা গ্রামের টমেটো চাষী সোহেল মিয়া জানান, পাইকারী ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে গত বছরের তুলনায় এ বছর কাঁচা টমেটোর দাম খুব কম। ফলে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ভৈরব থেকে উপজেলার চৌমুহনীতে টমেটো কিনতে আসা রফিক মিয়া নামের এক পাইকারি ক্রেতা বলেন, এবারের মৌসুমটাই খারাপ। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পাকা টমেটোর দাম কম।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক বলেন, প্রতি বছর টমেটোর মৌসুমের মাঝামাঝিতে দাম কমে। কিন্তু এবার শুরু থেকেই দাম কম। এ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারী ক্রেতা আসলে কয়েকদিনের মধ্যেই টমেটোর বাজারের অস্থিরতা কেটে যাবে বলেও আশা করেন তিনি।
আপনার মন্তব্য