১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ২০:১০
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মানবপাচার মামলার পলাতক আসামি আলিম উদ্দিনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের গোদাম বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলিম ওই ইউনিয়নের ফৈয়াজ আলীর ছেলে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ আইনের দুটি (জিআর-১৮/১৩ (মানব পাচার নং-০২/১৩) ও জিআর-১৭/১৩ (মানব পাচার নং-০৩/১৩) মামলায় আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি আলিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিন্টু চৌধুরীর নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহাঙ্গীর আলম, জিতু মিয়া ও রাশেদুল হক রাশেদ বর্ণি ইউনিয়নের গোদাম বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপের গ্রিসে পাঠানোর কথা বলে ২০১২ সালে বাংলাদেশী চার যুবককে বিদেশে অপহরণ করা হয়। এদের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের সুনাহর আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন ও বর্ণি ইউনিয়নের নেওয়ার আলীর ছেলে কাশেম উদ্দিন অপহৃত হন।
ওই বছর ছেলেকে অপহরনের অভিযোগ এনে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানায় মায়া রানী মন্ডলের দায়ের করা মামলায় বড়লেখা উপজেলা থেকে আলিম উদ্দিনের ছোটভাই আলম উদ্দিনকে (২০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসে গ্রিসে পাঠানোর নামে তুরস্ক-ইরান সীমান্ত এলাকায় স্বদেশির হাতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনার সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত আলমের ভাইদের সম্পৃক্ততার ভয়ঙ্কর তথ্য পায় পুলিশ। আলিম উদ্দিন তখন দুবাইতে ছিলেন। আর তার বড় ভাই পাচারকারী চক্রের সাথে জড়িত জাকির হোসেন ইমরান ইরানে ছিলেন (বর্তমানে সে ইরানে রয়েছে)।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মায়া রানী মন্ডলের মামলার পরই বড়লেখা থানায় আরও দুটি মানব পাচার মামলা হয়। ছেলে আলতাফ হোসেনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ এনে বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের সুনাহর আলী ও বর্ণি ইউনিয়নের নেওয়ার আলীর ছেলে কাশেম উদ্দিনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ এনে তার ভাই আবুল হোসেন মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে বড়লেখা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। এই দুটি মামলায় বর্ণি ইউনিয়নের ফৈয়াজ আলী (৬৫) তার ছেলে আলম উদ্দিন (২০), আলিম উদ্দিন (২৩), জাকির হোসেন ইমরানকে (২৫) আসামী করা হয়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বলেন, ‘আলিম দুটি মানব পাচার মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’
আপনার মন্তব্য