১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ১৪:৩৫
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পাখি অভয়াশ্রম বাইক্কা বিলে গত বছর শীত মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার পরিযারী পাখির সমাগম ঘটেছিলো। এবছর এই সংখ্যা নেমে এসেছে ৫ হাজারে। দেশের বৃহৎ হাওড় হাকালুকিতে এবার কমেছে অতিথি পাখির সংখ্যা।
সংশ্লিস্টরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে বিল ইজারা প্রদান, মানুষের অবাধ যাতায়াত আর বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকারের কারণে এবার হাকালুকি ও বাইক্কা বিলে পাখি কম এসেছে। এছাড়া গত বন্যায় হাওরে পাখির খাবারের খাবারের অভাব দেখা দেওয়ায়ও পাখি কমে গেছে বলে ধারণা তাদের। এভাবে চলতে থকেলে আগামীতে অতিথি পাখির সংখ্যা আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের।
এবার হাকালুকি ও বাইক্কাবিলে প্রায় ৫০ হাজার অতিথি পাখির সমাগম ঘটেছে। পাখি সমাগম কমলেও কমেনি পাখি শিকার। বিষটোপ দিয়ে নির্বিাচারে পাখি শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ পযন্ত বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখির কলকাকলিতে হাকালুকি হাওর ও বাইক্কাবিলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও বাইক্কাবিলে ভিড় করে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি।
সরেজমিনে ঘুরে নানা প্রজাতির দেশী বিদেশী পাখির সমাগম দেখা গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত নানা প্রজাতির হাজার হাজার অতিথি পাখি প্রতিদিনই খেলা করছে। কখনো আবার তারা ঝাঁকে ঝাঁকে আকাশে উড়ছে গলায় স্বর তুলে। বিভিন্ন আকার ও রঙের অগণিত পাখির আগমনে এইসব এলাকায় এসেছে নতুন মাত্রা। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ন্ত পাখির মনোরম দুশ্যও সেখানে আগত দর্শনার্থীদের বিমোহিত করছে ।
এ বছর মৌলভীবাজারে মোট ৫০হাজার ৫শত ১৮টি পাখির আগমন হয়েছে। তার মধ্যে হাকালুকিতে ৪৪ প্রজাতির ৪৫ হাজার ১’শ টি পাখি এবং বাইক্কাবিলে ৩৮ প্রজাতির ৫ হাজার ৪শত ১৮ টি পাখির দেখা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব।
সম্প্রতি পাখি শুমারি করে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব। এতে বাইক্কাবিলে ৩৮ প্রজাতির ৫ হাজার ৪১৮ টি পাখি মিলে যার মধ্যে পাতি তিলা হাস ১ হাজার ৫৮০ টি, বালি হাস পাওয়া গেছে ৩২৭ টি, পৃথিবী থেকে প্রায় বিপন্ন ভুতি হাস ১৮৮ টি, পান কৌড় ১২৮ টি।
দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালকিতে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ প্রজাতির মোট ৪৫ হাজার ১০০ টি পাখি পাওয়া গেছে । যার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হারে পিয়ানং হাস, পাতি তিলা , বালি হাস , ভুতি হাস , পান কৌড় , কালোকুট, পাতি পান মুরগি, বেগুনি কালেম সহ অনেক ধরনের পরিযায়ী পাখির দেখা মিলেছে।
তবে এবছর পাখির সংখ্যা অন্যান্য বছর থেকে কমে গেছে বাইক্কাবিল ও হাকালুকি হাওরে। বাইক্কা বিল নিয়ে কাজ করছে বেসরকারী সংস্থা ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিষ্টেম এন্ড লাইভলিহুড (ক্রেল)। তাদের তথ্যে জানা যায়, পাখি শুমারিতে গত বছর বাইক্কাবিলে ৪১ প্রজাতির ১০ হাজার ৭১৩ টি পাখি পাওয়া যায় কিন্তু এ বছর যা অধেৃকে নেমে এসছে। বাইক্কা বিলের পাখি ,মাছ ও জলজ উদ্ভিদ রক্ষায় ২০০৩ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রায় আড়াইশ একর আয়তনের বাইক্কা বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়।
গত বছরের বন্যায় জলজ উদ্ভিদ উৎপাদন ব্যাহত হয়, বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই বছর শেষে ডিসেম্বরে ভারী বৃষ্টিতে বিলের পানি বেড়ে যায়, ফলে পানির নিচে ডুবে যায় জলজ সবুজ উদ্ভিদ ও পদ্ম ঢোলকলমি বিলকে ঘিরে যে সবুজের জঙ্গল তৈরী হয় তাও হয়নি বিভিন্ন উদ্ভিদ মরে যাওয়ায়। এতে দেখা দেয় পাখির খাদ্যর অভাব।
হাকালুকিতেও পাখি কমার কারন হিসেবে বন্যার পাশাপাশি বিষটোপ এবং বিভিন্ন উপায়ে শিখারকেই দায়ী করা হচ্ছে। কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য অফিসার সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, হাকালুকিতে পাখি কমার অন্যতম কারন বিষটোপ দিয়ে পাখি শিখার তাই গত বছরের তুলনায় এ বছর পাখি কম এসেছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) মিহির কুমার দো জানান, এ বছর পরিযায়ী পাখি অনেক কম, কেন পাখি কম এ বিষয়ে পাখি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহবান থাকবে সেটা চিহ্নিত করা এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ এর কোন সংকট আছে কিনা সেটাও খুজে দেখা দরকার।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সীমান্ত দিপু বলেন, হাকালুকিতে পাখি কমার একমাত্র কারণ মানুষ। গণহারে বিল লিজ দেওয়ার কারনে মানুষ বিলে অবস্থান করে পাখি তাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শিকার করছে।
তিনি আরো জানান, পাখি প্রাকৃতিক ভাবে যেকোন বিল বা হাওরের জন্য উপকারী। বিশ্বের বিভিন্ন যায়গায় দেখা গেছে পাখি না থাকলে মাছ এবং ফসলের ফলন কমে যায় কারন পাখির বৃষ্ঠা উন্নত্য জৈবিক সার।
আপনার মন্তব্য