রিপন দে, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ১৪:৩৮

যেখানে বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায় কিশোরীরা

সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়ার দৃশ্য এখন আর বিরল নয়। অনেক এলাকায়ই এ দৃশ্য চোখে পড়ে। বাইসাইকেল চালিয়ে মেয়েরা স্কুলে যাবে বিষয়টা যারা মেনে নিতে পারেননি তারা এখন স্বাগত জানাচ্ছে তিন শতাধিক ছাত্রীর বাইসাইকেল চালিয়ে আসা।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তিন শতাধিক ছাত্রী এখন বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে। সাইকেল পেয়ে প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রীদের মুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ। তাদের দেখাদেখি এখন উৎসাহিত হচ্ছে অন্যান্য ছাত্রীরাও। এই উদ্যোগ নারী শিক্ষার অগ্রগতি ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্র প্রসারিত করবে বলে ধারনা সচেতন মহলের।

জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত বছর থেকে বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দরিদ্র ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ প্রকল্প চালু করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন হাই স্কুলে এখন পর্যন্ত ৩১০ জন ছাত্রীকে সাইকেল দেয়া হয়েছে। এখন উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এই প্রকল্প চলমান রয়েছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে  দরিদ্র ছাত্রীরা পাচ্ছে বাইসাইকেল। সাইকেল পাওয়ায় যারা ৪/৫ কি.মি হেটে আগে স্কুলে নিয়মিত আসতে পারতেননা তারা এখন ক্লাস করছেন নিয়মিত। ফলে নারী শিক্ষার হার বাড়ছে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা ক্ষেত্রে এসেছে নতুন মাত্রা। প্রকল্পের শুরুতেই মেয়েরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাবে তা অনেকেই মানতে পারেনি কিন্তু দিনে দিনে পাল্টে গেছে এর চিত্র এখন সবাই স্বাগত জানাচ্ছে।

এই প্রকল্প থেকে সাইকেল প্রাপ্ত উপজেলার তেঁতই গাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী বিরাজমনি জানান, স্কুলে আসতে পাঁচ কিলোমিটার পথের পুরোটাই পায়ে হাঁটতে হতো । দুর্গম কামার ছড়া চা বাগানের পথে পথে ছিল নানান বিড়ম্বনা। স্কুল থেকে বাড়ী ফিরতে সন্ধ্যা হত, ক্লান্ত শরীর নিয়ে পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হতনা।

অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে তারা চিন্তায় থাকতেন কারন দুর্গম পথে ৪/৫ কি.মি হেটে বাড়ীতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যেত , অনেকে আবার মেয়েদের জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করতেন কিন্তু সাইকেল পাবার পর তারা এখন চিন্তা মুক্ত। হাসি মুখে মেয়েকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন।
সাইকেল চালিয়ে রাস্তা পাড়ি দেওয়ার কারনে পথে পথে নেই ইভটিজিং নামের মানসিক যন্ত্রণা, যার ফলে নিজের মত করে নিজেকে বিকাশ করতে পারছে কিশোরীরা। বাড়ছে আত্মবিশ্বাস।

স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন জানালেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখছে। সেই সাথে বাড়ছে নারী শিক্ষার হার।

প্রকল্পের উদ্যোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান,  এই উদ্যোগে নারী শিক্ষার অগ্রগতির পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে।

পর্যায়ক্রমে প্রকল্পটির আরো বিস্তৃতি ঘটবে বলেও আশাবাদি এই কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত