রিপন দে, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

২২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ০০:২৩

বইপ্রেমী জামাল মিয়া

'পারিবারিক সামাজিক কত শত টেনশন, অভাব অনটন সব কিছু থেকে মুক্তি পাই বই পড়ে,  তাই আমি বই পড়ি। এইভাবেই কথা গুলো বলছিলেন বইপ্রেমী জ্ঞানপিপাসু জামাল মিয়া । ছোট একটি পান ভাণ্ডার তার আয়ের উৎস। যত টাকা আয় হয় তার বিরাট একটি অংশ ব্যয় হয় বই ক্রয়ের পেছনে। ব্যবসার ফাঁকেফাঁকে বই পড়েন বাসায় গিয়ে ডুবে থাকেন বইয়ে। কতশত বই পড়েছেন হিসেব রাখেননি, বাসায় আছে পাঁচ শতাধিক বই।

মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডের ঘরোয়া পরিবেশের ছোট্ট হোটেল জননী। জননী হোটেলে মৌলভীবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের আড্ডাস্থল। কাজের ফাঁকে যতটা সময় মিলে সবাই চেষ্টা করে সেই মূল্যবান সময়টি  জননী হোটেলে আড্ডায় ব্যয় করতে।

জননী হোটেলের সামনের জামাল মিয়ার পান ভাণ্ডার, ২৩ বছর যাবত পান বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। জামাল মিয়ার একমাত্র ছেলে প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। স্ত্রী  প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা। এইচএসসির পর আর লেখাপড়া করেতে পারেননি তবে থেমে যায়নি জ্ঞান পিপাসা। প্রতিনিয়ত বই পড়ছেন জ্ঞানের মহাসমুদ্র থেকে কিছু আহরণ করার জন্য।

জামাল মিয়া আলাপ কালে জানান, তার মন খারাপ, পারিবারিক বা ব্যবসায়ী টেনশন! যেকোনো মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তার একমাত্র সমাধান বই। জীবনে কতটি বই পড়েছেন তার হিসেব রাখেননি। পান সিগারেট বিক্রি ফাঁকেফাঁকে বই পড়েন।

দৈনিক পত্রিকা দিয়ে বইয়ের উপরে মলাট লাগান যেন কেউ বইয়ের নাম না দেখে। সব সময় বই মেলে রাখেন সুযোগ পেলেই চোখ রাখেন বইয়ে। বাসায় গিয়েও ডুবে থাকেন বইয়ের মাঝে। তার পছন্দের তালিকায় আছেন নবীন প্রবীণ সব লেখক।

যখন তার সাথে কথা হয় তখনো কথার ফাঁকেফাঁকে পড়ছিলেন জাতীর পিতার আত্মজীবনী। সামান্য সময় পেলেই বইয়ে চোখ নিজ থেকেই চলে যায়। এটাই নাকি তার অভ্যাস হয়ে গেছে। কোন কারণে বই পড়তে না পারলে নিজেকে অসুস্থ মনে করেন। অনেকেই তার কাছ থেকে বই ধার নিয়েছেন কিন্তু বেশীরভাগ তা আর ফেরত দেয়নি।

প্রতিদিন ছোট দোকানে ৮০০/১০০০ টাকার বিক্রি হয়, তা থেকে যা আয় হয় তার বড় অংশ খরচ করেন বই ক্রয়ে। অভাবের সংসার তবুও তার স্ত্রী এ নিয়ে আপত্তি করেন না।

জামাল মিয়া আফসোস করে বলেন, ছাত্রলীগের অনেক ছেলেরা আমার কাস্টমার কিন্তু তাদের বিরাট অংশ জাতিরপিতার আত্মজীবনী পড়ে দেখেনি তেমনি ছাত্রদলের অনেক ছেলে আছে জিয়াউর রহমান কোন সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন সেটাই বলতে পারেনা। জানতে হলে পড়তে হবে। জানাতে পারলে নিজের আত্মবিশ্বাস ডানা মেলে নিজেকে পূর্ণ লাগে।

সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মহসিন পারভেজ জানান, আমি ২০ বছর যাবত জামাল মিয়াকে এভাবেই দেখে আসছি সে খুব মেধাবী এবং জ্ঞানপিপাসু।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত