২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ১৭:৫৫
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ এখনও শুরু হয়নি। ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত টানা কয়েক দফা বন্যায় এই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লোকজনদের।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার অন্তত পাঁচ মাস পার হলেও সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তা না হলে বর্ষায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। চান্দগ্রাম থেকে জুড়ী কুইয়াছড়ি ব্রিজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ কিলোমিটার। গত বছরের মার্চ মাস থেকে মৌলভীবাজারে শুরু হয় বন্যা। বন্যার স্থায়িত্ব ছিলো সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। কয়েক দফা বন্যার পানি এই সড়কের সফরপুর, হাতলিঘাট, কুয়াইয়াছড়ি এলাকায় ওঠে সড়কটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে বন্যার পানি নেমে যায়। এরপর বেরিয়ে আসে সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তগুলো। এসব গর্তে আটকা পড়ে ছোট-বড় অসংখ্য যানবহন নষ্ট হয়েছে।
প্রায় মাসখানেক পর সওজ কর্তৃপক্ষ জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটিতে ইট-বালু ফেলেছিল। কিন্তু জোড়াতালির এ কাজে জনদুর্ভোগ কমেনি। এ অবস্থায় প্রায় পাঁচ মাস থেকে ছোট-বড় যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলছে। এতে চলাচলকারী লোকজন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে সড়কটির সংস্কার কাজ এখনও শুরু হয়নি।
সরেজমিনে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দেখা গেছে, মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়কের চান্দগ্রাম থেকে জুড়ী কুইয়াছড়ি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কের গর্তগুলো আগের অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত কিছুস্থানে সওজ কর্তৃপক্ষ ইটবালু ফেলেছে। সে সব স্থানগুলো অসমতল রয়েছে। কয়েকটি স্থানে পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে। এসব স্থানগুলোতে ধুলাবালি উড়ছে। ছোটবড় গাড়িগুলো হেলে দুলে চলছে।
কাঁঠালতলী সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের সদস্য রাজু আহমদ বলেন, ‘ভাই সড়ক না নরক কিতা কইতাম। পাঁচ-ছয় মাস আগে বন্যায় সড়কটা ভাঙছে। এখন আগের লাখান (মতো) অবস্থায় আছে। কিন্তু কেউ সড়কটা ঠিক করে না। দেখুন আমার গাড়ির অবস্থা। বেশি কষ্ট হয় রোগিদের হাসপাতাল নেওয়ার সময়। এই সড়কের কাজ শেষ অইব কোনদিন।’
এই সড়ক দিয়ে প্রায় চলাচল করেন কলেজ শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও জাকারিয়া আহমদ। শুক্রবার দুপুরে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘টানা কয়েকমাসের বন্যায় সড়কটি একেবারে ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় আছে। সড়ক দিয়ে প্রত্যেকদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। প্রতিদিন ভাঙা সড়কে ধুলাবালি উড়ছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারপরও সড়কটি সংস্কারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এতোদিন ধরে সড়কটির কাজ না হওয়া দু:খজনক। আবারও যদি বন্যা শুরু হয়। তাহলে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমাদের দাবি সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ জানান, ‘সড়কের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৪ কোটি টাকা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এটা পাশ হয়েছে। টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও টেন্ডার মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন হলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। আশা করা যাচ্ছে মার্চের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। এছাড়া ওই সড়কে মৌলভীবাজার থেকে চান্দগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন অংশের ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে আরও ৫৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের মূল্যায়ন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়েছে। ঠিকাদার শিঘ্রই কাজ শুরু করবে।’
আপনার মন্তব্য