০৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:১৭
লেখক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীর নাম ফয়জুর রহমান (২৪) বলে জানা গেছে। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালিয়াপন গ্রামের হাফিজ আতিকুর রহমানের ছেলে। পরিবারের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার থাকতেন ফয়জুর। তিনি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছেন বলে জানা গেছে। ফয়জুর মঈন কম্পিউটার নামে একটি দোকানে কাজ করতো বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা চলে গেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় শেখপাড়ার বাসাটিতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের বাসাটি তালাবদ্ধ।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ফয়জুল মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বলে এলাকায় পরিচয় দিতেন। তবে কোন মাদ্রাসায় পড়েন-এ বিষয়ে এলাকার কেউ জানাতে পারেননি। ফয়জুলের বাবা মাওলানা হাফিজুর রহমান সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পার্শ্ববর্তী টুকেরবাজারে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
এলাকাবাসী জানান, ফয়জুল ইসলাম এলাকার মসজিদকে হানাফি মাযহাবের মসজিদ দাবি করে নিজে এই মসজিদে নামাজ পড়া থেকে বিরত রাখেন।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে জাফর ইকবালের উপর হামলা হয়। ছুরি দিয়ে এই লেখক-অধ্যাপকের মাথায় আঘাত করে হামলাকারী। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ওই হামলার পরপর জাফর ইকবালকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে তার ক্ষত স্থান পরিষ্কার করে সেখানে সেলাই দেওয়া হয়েছে। এরপর অধ্যাপক জাফর ইকবালকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
এদিকে হামলার পরপরই উপস্থিত শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীকে ধরে ফেলে। পিটুনি দিয়ে ওই তরুণকে ধরে নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে। সেখানে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এনে হাসপাতালে ভর্তি করে।
রাত ১২টার দিকে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান্ও হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
আপনার মন্তব্য