০৪ মার্চ, ২০১৮ ০১:৪৪
অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসককে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, 'আমি ঘুমাব, আমাকে ঘুমের কিছু দিন। '
ফেসবুকে এমনটি জানিয়েছেন ওসমানী হাসপাতালে জাফর ইকবালের অস্ত্রপচারের সময় উপস্থিত থাকা এনেস্থেশিয়া বেশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ শরিফ।
অপারেশন থিয়েটারে রাজনৈতিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জটলার কারণে এই শিক্ষাবিদের চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. রিয়াদ লিখেন- 'ওটি ভর্তি মানুষ... আসছে যাচ্ছে... সবাই ভিআইপি, কেউ কেউ সেলফি তুলতে বিজি... প্রশ্ন উঠতে পারে, আমরা কেন এলাও করলাম? আসলে, এ অবস্থায় আমাদের হাতে কোন কন্ট্রোল থাকে না , তবু একজন কে বলেও ফেললাম- এভাবে সেলফি তুলছেন কেন ? ...রিভার্স হবার পর ,স্যার আমাকে বললেন , আমি ঘুমাব, আমাকে ঘুমের কিছু দিন। এর পর আরও বেশ কয়েকজন নামী দামী ভিআইপি মহোদয় , আমি জাফর স্যার এর মাথার কাছে দাঁড়ানো... মনে মনে ভাবছি, এ লোকটা ঘুমাবে কীভাবে?? রিভার্স হবার পর, রোগীকে কাম কোয়াইট রাখতে হয় , এজন্যই পোষ্ট অপারেটিভ, শুধু খ্যাতির কারনে আজকে উনাকে এ বাড়তি কষ্টটুকু করতে হচ্ছে... দোয়া করি , উনি সুস্থ হয়ে উঠুক। '
অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্বে থাকা আরেক চিকিৎসক ডা. আদনান চৌধুরী ফেসবুকে লেখেন- অধ্যাপক জাফর ইকবাল আমার দেখা একজন সাহসী মানুষ। অপারেশনের বিছানায় যখন তাকে এনস্থেশিয়া দেওয়া হচ্ছে তখনও তিনি বলেছেন- 'আমি ঠিক আছি। কিছু রক্তের প্রয়োজন। '
শনিবার বিকেলে নিজের ক্যাম্পাসে পুলিশি পাহারার মধ্যে আক্রান্ত হন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তাঁর মাথায় চারটি আঘাতের ক্ষত পেয়েছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া তার বাঁ হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাতের জখম হয়েছে।
ওসমানি মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “উনার মাথায় চারটি আঘাত করা হয়েছে। এগুলো রডের আঘাত বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া তার বাঁ হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাতের জখম রয়েছে।”
জাফর ইকবালের শরীরে ২৫ থেকে ২৬টি সেলাই পড়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন উনি শঙ্কামুক্ত।”
সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার বিকালে হামলার পর ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে।
সেখানে অস্ত্রপচার শেষে রাত ১০টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য ওসমানি মেডিকেল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জাফর ইকবালকে সিলেট বিমানবন্দরে নেওয়া হয়।।
শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফেস্টিভ্যাল চলছিল ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জাফর ইকবাল; সেখানেই তার উপর হামলা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মঞ্চের পেছন থেকে একজন স্যারের মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মঞ্চের পেছন থেকে এসে এক ছেলে ছুরি মারে গলা, বুক ও মুখের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে।”
অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলার পর এই তরুণকে ধরে পিটুনি দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে ফয়জুর রহমান নামে ওই তরুণকে উদ্ধারে করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
কারা কী কারণে এই হামলা করেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছে না পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এতে জঙ্গিদের হাত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য