নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ মার্চ, ২০১৮ ১৫:০৭

জাফর ইকবালকে চাবুক মারার কথা আমি বলিনি: এমপি কয়েস

'অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে চাবুক মারতে চাওয়ার কথা আমি বলিনি। আমার বক্তব্যটি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে। আমার বক্তব্যের সাথে 'চাবুক মারার' অংশটুকু যুক্ত করা হয়েছে।'- এমন মন্তব্য সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ কয়েসের।

মঙ্গলবার (৬ মার্চ) দুপুরে নগরীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য।

২০১৫ সালের ৯ মে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি সমাবেশে জাফর ইকবালের প্রতি বিষেদগার করেন কয়েস। এই সমাবেশে কয়েসের বক্তব্যের একটি অডিওক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যাতে এই সংসদ সদস্যকে বলতে শোনা যায়-

'আমি ছিলাম শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে, সেখানে সিলেটি ছেলেদের ওরা ভর্তি করানোর জন্য ১৪ আইন কালো কানুন দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এই যে আপনার কি এটার নাম জাফর ইকবাল সে হল ১ লক্ষ পারসেন্ট গৌড়গোবিন্দ, সে চায়না সিলেটের মানুষ শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোক। এখানে যে ভিসি ছিল তাকেও দিয়েছে তাড়িয়ে। আর এই সিলেটের মানুষ তাকে ফুলচন্দন নিয়ে সুন্দর সুন্দর ফুল নিয়ে প্রত্যেক দিন মূর্তিপূজা করতে যায়। আমি যদি বড় কিছু হতাম তাকে ধরে চাবুক মারতাম কোর্ট পয়েন্টে এনে ...জাফর ইকবাল তাকে আমি চাবুক মারতাম। এই লেফইষ্টরা আমাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে।"

এই বক্তব্য চাউর হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সাংসদ কয়েস। এই সমালোচনার সময়েই সিলেট নগরীতে জাফর ইকবালের শাস্তি চেয়ে মিছিল করে আওয়ামী লীগ দলীয় এই সংসদ সদস্যের অনুসারীরা।

তবে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে কয়েস দাবি করেন, চাবুক মারার বক্তব্য তিনি রাখেন নি। মঙ্গলবার নিজের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন কয়েস। এতে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- জাফর ইকবালকে চাবুক মারার আগ্রহ প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জাফর ইকবালের উপর সাম্প্রতিক হামলার ব্যাপারে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

জবাবে চাবুক মারার আগ্রহ প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন কয়সে।

এসময় জাফর ইকবালের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমাদের দেশের সম্পদ, আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। তাঁর মতো বিজ্ঞানী ও শিক্ষক আমাদের দেশে আরো বেশি প্রয়োজন।’

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইইই ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠান চলার সময়ে জাফর ইকবালের ওপর হামলা করে ফয়জুর রহমান নামে এক তরুণ। এ সময় তার মাথায় ছুরিকাঘাত করে হামলাকারী। ঘটনার পর পরই ফয়জুর রহমানকে আটক করে গণপিটুনি দেয় শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পর জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ভিডিও : আলোচিত সেই অডিওক্লিপ

আপনার মন্তব্য

আলোচিত