০৮ মার্চ, ২০১৮ ১৫:২১
ঘড়িতে সময় সকাল ৭টা। কলেজে পৌঁছাতে হবে সকাল ৮টার ভিতরে। রোজকার মত পদ্য, কাব্য আর তাদের বাবাকে গভীর ঘুমে রেখে কলেজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন রুমা।
ছাত্র-ছাত্রীদের নির্ধারিত ক্লাসগুলো নিয়ে ১১টার দিকে আবার বাসায় আসতে হয় নিজ ঘরের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে পাঠানোর জন্য। কাব্য, পদ্যকে স্কুলের জন্য তৈরি করে স্কুলে পাঠিয়ে রান্নার আয়োজন করে আবারো কলেজের পথে। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যাদান করে বিকাল ৫টার দিকে ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরেন রুমা। বিকালে কোনদিন নাটকের রিহার্সাল, কোনদিন অতিথি আপ্যায়ন। ব্যস্ততার দিন কাটিয়ে রাত শুরু হয় বাচ্চাদের হোম ওয়ার্ক দিয়ে। হোম ওয়ার্ক করানোর ফাঁকে ফাঁকে শেষ করতে হয় রাতের রান্না। এরই ফাঁকে চলে লেখালেখি।
একাই এই সব কিছু করতে হয় তাকে। পৌরাণিক দশভুজা নারী চরিত্রের মতো তাঁর দশ হাত নেই বটে। তবে দুই হাত দিয়েই দশদিক সামলাতে হয় তাকে। তিনি রুমা মোদক। গল্পকার ও নাট্যকার।
জিজ্ঞেস করি- দিদি প্রতিদিনের রুটিন কি আপনার? হেসে বললেন, ‘রুটিন... প্রতিদিনের রুটিনে ২৪ ঘণ্টা পোষায় না আমার। মনে হয় দিনটা ৪৮ ঘণ্টার দিন হলে বেশ হতো।’
হবিগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন রুমা মোদক। প্রতিদিনই এই ছোট শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান তিনি। চাকরী, লেখালেখি, নাটক, সন্তান লালন পালন সবকিছু করে চলছেন সমানভাবে।
রাতের খাবার শেষে সারাদিনের ক্লান্তিকে নির্বাসন দিয়ে লিখতে বসেন। সারাদিন সবদিকে বিচরণ করে ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে শুধুমাত্র নিজের জন্য থাকে ওই লিখার সময়টা। পার্লারে যান না, রূপচর্চা করেন না, টিভি সিরিয়াল দেখেন না, আড্ডা দেন না।
নানা জায়গায় নানা রূপে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সর্বদাই লড়াই করছেন এই নারী। রুমা মোদক বলেন, ‘সারা দিন যা করি সবটাই আমার দায়িত্ব। যদি সারাদিন পড়তে পারতাম। লিখতে পারতাম তবে সেটা হতো নিজের খুশি। এর মাঝে আমি লিখি। এটাই আমার একমাত্র তৃপ্তির জায়গা।’
এখন পর্যন্ত তাঁর ৬টি বই প্রকাশ হয়েছে। বইগুলোর মধ্যে গল্পের বই ৩টি, কবিতার বই ১টি, নাটকের বই ১টি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ১টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
রুমা মোদক মনে করেন নারী মানে অন্তহীন লড়াই।
জানতে চাই- আপনার কাছে নারীর সংজ্ঞায়ন কি?
বলেন, ‘আমাদের সমাজের নারী মানে সমাজ সংসারে অন্তহীন লড়াই। হেরে গেলে হারিয়ে যাবে। কেউ মনে রাখবে না লড়াইয়ের কথা। আর শেষ পর্যন্ত লড়াই করে একটা জায়গায় যেতে পারলে লোকে উদাহরণ দেবে। কিন্তু লড়াইয়ে টিকে থাকা খুব কঠিন। বেশিরভাগ হেরে যায়। এ লড়াই একদম একার।’
আপনার মন্তব্য