২৯ এপ্রিল, ২০১৮ ২০:০৬
সাবেক শিবির নেতাকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ দেয়ার প্রতিবাদ করায় এবার পদ হারাতে হলো ছাত্রলীগ নেতাকে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় শরীফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে সাবেক শিবির নেতাকে ১ম সহসভাপতি এবং ৩১ বছরের ৮ম শ্রেণি পাশ অছাত্রকে সভাপতি করে কমিটি ঘোষণা করায় প্রতিবাদ করেন একই কমিটির সহ সভাপতি সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন সহ তৃণমূল কর্মীরা।
ঘোষিত কমিটিতে শিবিরের সাবেক নেতা মিজান আহমদকে নিয়ে অনুপ্রবেশ বিতর্ক সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত ওই সহসভাপতি এবং প্রতিবাদকারী সহসভাপতি উভয়কে বাদ দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর পুনরায় সংশোধিত কমিটি ঘোষণা করে উপজেলা কমিটি। যদিও মিসবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন রকম অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগ। এতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শিবিরের অনুপ্রবেশকারীর সাথে সাথে কেনো প্রতিবাদকারীকেও বাদ দেওয়া হল তা জানতে চাইলে কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়াম রুমেল সিলেটটুডেকে বলেন, মিসবাকে আমরা উপজেলা কমিটিতে সহসম্পাদক করে নিয়ে আসবো আগামী কাউন্সিলে তাই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল স্বীকার করে তিনি আরও জানান, আমরা শিবিরের অনুপ্রবেশকারী প্রমাণ পেয়ে মিজান আহমেদকে বাদ দিয়ে সংশোধিত কমিটি দিয়েছি।
এদিকে, ছাত্রলীগের কর্মী সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিনকে বাদ দিয়ে সংশোধিত কমিটি ঘোষণা করায় স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত ২৮ এপ্রিল শনিবার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নিয়াজুল তায়েফ এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণা করেন। বিতর্ক সৃষ্টির কয়েক ঘণ্টা পর পুনরায় সংশোধনী কমিটি ঘোষণা করেন তারা।
জানা যায়, ঘোষণার পর থেকে নবগঠিত এই ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগের মাঝে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গঠনতন্ত্র না মেনে অধিক বয়সী অছাত্রকে সভাপতি এবং শিবির নেতাকে নবগঠিত কমিটিতে সহসভাপতির পদ দেয়ায় উপজেলা নেতৃবৃন্দের উপর তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শিবিরের অভিযোগে বাদ পড়া মিজান আহমদ রোকশান বলেন, আমি শিবির করি না। ২০১২ সালের আগে শিবির কর্মীরা আমাকে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিলো। ২০১৫-২০১৬-তে আইডি হ্যাক করে কে বা কাহারা। এতদিন পর আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হয়েছে। এটা ব্যক্তিগত ক্রোধ থেকে হয়েছে।
কমিটি থেকে বাদ পড়া প্রতিবাদকারী সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একজন মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসেবে শিবির অনুপ্রবেশ মেনে নিতে পারিনি। এছাড়াও সংগঠনের পরিপন্থী ৩১ বছর বয়সী একজনকে ছাত্রলীগের সভাপতি করায় আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন দেখছি উল্টো শাস্তি পেতে হচ্ছে আমাকে। শুনেছি সংশোধিত কমিটি থেকে আমাকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল সিলেটটুডেকে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। প্রতিটি আদর্শবান ছেলে সংগঠনের প্রাণ। আমরা বিস্তর খবর নেব। সংগঠন আদর্শভিত্তিকভাবে চলবে।
আপনার মন্তব্য