২০ জুলাই, ২০১৮ ০১:০৮
২০০২ সালে সিলেট পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পর পেরিয়ে গেছে ১৬ বছর। এই সময়কালে তিন মেয়াদে দুইজন মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন এই নগরীর। বাস্তবায়িত হয় বেশকিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। তবে এই দীর্ঘসময়ে নারীদের উন্নয়ন ও সেবায় নেয়া হয়নি তেমন কোনো উদ্যোগ।
নারীদের কথা বিবেচনায় না নিয়েই এতদিন নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয় বলে দাবি নারী নেতৃদের। আগামীতে যিনি মেয়র নির্বাচিত হবেন তাঁর কাছে সিলেট নগরীকে নারীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তাদের।
সিলেট মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শিরিন আক্তার বলেন, সিলেট নগরী ঠিক নারীবান্ধব হিসেবে গড়ে ওঠেনি। নগরে নারীদের হাঁটাচলার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফুটপাতগুলোও দখল হয়ে আছে। কোনো উন্মুক্ত উদ্যান নেই। ফলে বয়স্ক ও অসুস্থ নারীরা সকাল বা বিকেলে হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করতে চাইলেও সে সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সিলেটের নারীরা কিছুটা রক্ষণশীল। ফলে উন্মুক্তস্থানে তারা শরীরচর্চা করতে চান না। তাদের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়া আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া মেয়রের কাছে এসিড আক্রান্ত নারীদের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান।
শিরিন আক্তার বলেন, তবে সবার আগে প্রয়োজন জনপ্রতিনিধিরা যেনো তাদের উন্নয়ন ভাবনায় নারীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখেন। এই নগর কেবল পুরুষের নয়, নারীদেরও। আর নারীরা যেহেতু পিছিয়ে আছেন এবং সিলেটের মতো একটি রক্ষণশীল শহরে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাদের চলাফেরা করতে তাই তাই তাদেও জন্য বিশেষ কিছু পরিকল্পনা ও উদ্যোগের প্রয়োজন।
জানা যায়, মাস দুয়েক আগেও সিলেট নগরীতে নারীদের জন্য ছিলো না কোনো পাবলিক টয়লেট। গত এপ্রিলে একটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহযোগিতায় নারীদের জন্য একটি পাবলিক টয়লেট চালু করা হয়। এছাড়া সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন মাতৃ ও স্বাস্থ্য সেবা সেন্টার আছে মাত্র একটি। প্রায় ২৭ কিলোমিটার আয়তনের নগরীতে যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নগরীতে নেই কোনো গণপরিবহন। ফলে কর্মজীবী নারী ও ছাত্রীদের চলাচলে বিপদে পড়তে হয়। অটোরিকশায় পুরুষ যাত্রীদের সাথে যাতায়াত করতে হয় তাদের। অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায়ও পড়তে হয়। নেই কর্মজীবী নারীদের জন্য আবাসনের কোনো ব্যবস্থাও।
সিলেট ওমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায় বলেন, গণপরিবহন না থাকায় সিলেটে নারীদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়। আর সিটি করপোরেশন বা সরকারী উদ্যোগে সিলেটে কোনো নারী হোস্টেল নেই। ব্যক্তি উদ্যোগে যেগুলো আছে সেগুলোও কেবল ছাত্রীদের জন্য। ফলে কর্মজীবী নারীদের আবাসন সঙ্কটে পড়তে হয়। আগামীতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গণপরিবহন চালু ও কর্মজীবী নারীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের তিন লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী। নগরীতে নারী ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৩ জন। আগামী দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এই বিপুল সংখ্যক নারীদের কথা জনপ্রতিনিধিরা বিবেচনায় রাখবেন এমনটিই প্রত্যাশা নারীনেত্রীদের।
নারী মুক্তি আন্দোলন সিলেটের সভাপতি ইন্দ্রানী সেন সম্পা বলেন, ইউনিয়নে-ইউনিয়নেও কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। অথচ আমাদের নগরীতে মাতৃস্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র আছে মাত্র একটি। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একটি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন। এছাড়া নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেও সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ নিতে হবে।
আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিচ্ছেন ৭ মেয়র প্রার্থী। এতে সাবেক দুই মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরী এবারও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি। তারা দু’জনই আশ্বাস দিয়েছেন এবার নির্বাচিত হলে নারীবান্ধব নগরী গড়ে তুলবেন।
বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আগে নগরীতে নারীদের জন্য কোনো পাবলিক টয়লেট ছিলো না। আমি পাবলিক টয়লেটসহ একটি ওয়াশ ব্লক চালু করেছি। এরকম আরও চারটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া নারীদের জন্য একটি নিরাপদ নগরী গড়তে আমি কাজ করবো।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময়ই নারীদের উন্নয়নে কাজ করে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি বেকার নারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। নারী উদ্যোক্তাদেরও সহায়তা করবো।
আপনার মন্তব্য