২৬ জুলাই, ২০১৮ ২০:০৪
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সিটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হবে সিলেট নগরীতে কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে তা এই ইশতেহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী ইশতেহার এখানে তুলে ধরা হলো-
যুগ যুগ থেকে চলে আসা জলাবদ্ধতার দুঃস্বপ্ন অবসান, বইছে স্বস্তির নিঃশ্বাস:
রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দর নগরী চট্টগ্রাম যখন জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে আজো মুক্ত হতে পারেনি। ঠিক সেই জায়গায় মাত্র ৫ বছরেই জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে প্রায় মুক্ত সিলেট নগরী। আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে এই নগরীর মানুষের কাছেও জলাবদ্ধতা এক দুঃস্বপ্নের মতো ছিলো। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ শুরু করি। নগরীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ৯টি প্রধান ছড়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সবগুলিই খালের পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য খাল দখলমুক্ত করণ, খনন এবং নাগরিক বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে খালগুলি সৌন্দর্যবর্ধন করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে এবং কিছু কাজ এখনও চলমান আছে। এছাড়াও প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতি করে সকল ড্রেনগুলিকে সচল রাখা গেছে। যার সুবিধা এই নগরীর প্রতিটি মানুষ এখন জলাবদ্ধতা নামক অভিশাপ থেকে প্রায় মুক্ত।
এক্ষেত্রে চলতি মাসে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকে যা লেখা হয়েছে তা হুবহু উল্লেখ করছি ‘২০১৩ সালের জুনে সিলেটে ৭২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। একই সময়ে অর্থাৎ এ বছরের জুনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৯২ মিলিমিটার। আর গত বছরের জুনে বৃষ্টিপাত হয় ১ হাজার ১৫ মিলিমিটার অর্থাৎ ২০১৩ সালের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতেও শহরে সে রকম জলাবদ্ধতা হয়নি। (প্রথম আলো, ১৯ জুলাই, ২০১৮)।
আগামীর পরিকল্পনা: আগামীতেও ছড়া ও খাল উদ্ধার কর্মসূচী অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শতভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী করার স্বার্থে সুরমা নদীকে খনন করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করব। সুরমা নদী ভরাট হওয়ার কারণে নদীর পানি যখন বেড়ে যায় তখন ছড়া ও খালের পানি নদীতে গিয়ে মিশতে পারে না, তখন নদী সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা উত্তরণের জন্য নদী খনন জরুরী।
প্রযুক্তির সিলেট
সিলেটবাসীর জন্য গত নির্বাচনে মেয়র পদে আমি ছিলাম একেবারে নতুন এক মুখ। কিন্তু আপনারা আমাকে বেছে নিয়েছিলেন আপনাদের সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে। আমিও চেষ্টা করেছেন সকলের দুঃখে-সুখে পাশে থাকার। গত নির্বাচনী ইশতেহারে আমি সিলেটকে একটি তথ্য প্রযুক্তির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছিলাম। স্বল্প জনবল ও সম্পদ নিয়েও আমি তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। ইতোমধ্যে সিলেট নগর ভবনে আমরা ওয়াইফাই সুবিধা চালু করেছি। নগর অ্যাপস চালু করে সিটি করপোরেশনকে তথ্য প্রযুক্তি বান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। সিলেট সিটি করপোরেশন নগর এ্যাপ নামক ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে এই নগরবাসী তাদের প্রয়োজনীয় সকল বিল, বকেয়া আজ সিটি করপোরেশনকে প্রদান করতে পারেন। যা জনগণকে দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং বাংলাদেশে সিলেট সিটি করপোরেশনই প্রথম ও একমাত্র এ সার্ভিসটি চালু করেছে। সিলেট সিটি করপোরেশন একটি নিজস্ব এবং পরিপূর্ণ ওয়েব সাইট খোলা হয়েছে এর মাধ্যমে প্রবাসীরাও তাদের বাড়ী ঘরের হালনাগাদ তথ্য জানার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের যে কোন নাগরিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন এবং যে কোন পরামর্শ বা অভিযোগ জানাতে পারছেন খুবই সহজেই। ‘তথ্য প্রযুক্তি ভবন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র সন্ধ্যাবাজারে প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।
আগামীর পরিকল্পনা: সিলেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়াইফাই চালুরও কাজ শুরু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট প্রোভাইডার কোম্পানির সাথে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। আমি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে ‘তথ্য প্রযুক্তি ভবন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
যানজট নিরসন ও হকার পুনর্বাসন, তৈরি হচ্ছে স্থায়ী মার্কেট
যানজট সমস্যা সমাধানে যে দীর্ঘ এবং পরিকল্পিত স্বপ্ন নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই সমস্যা সমাধানে আমি কতটা সফল সেই বিবেচনার ভার আপনাদের কাছেই দিলাম। রিকশার জন্য আলাদা লেন চালু, জীবন বাজি রেখে রাস্তা প্রশস্তকরণ কার্যক্রমে দিনরাত পরিশ্রম করে প্রমাণ করে আমি যানজট নিরসনে সদা আন্তরিক ছিলাম। ইতোমধ্যে দেখেছেন প্রধানতম সড়ক রিকাবীবাজার টু মীরের ময়দান রাস্তা, চৌহাট্টা টু কুমারপাড়া রাস্তা এবং ক্বীনব্রিজ থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বরসহ নগরীর অসংখ্য রাস্তা প্রশস্ত হয়েছে। যত্রতত্র ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে নগরীতে যে মারাত্মক যানজট সৃষ্টি হয় তা থেকে মুক্তি পেতে পারাইরচকে একটি ট্রাক টার্মিনালের নির্মাণ কাজ প্রায় ৯০% ভাগ শেষ হয়েছে। আশা করছি খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি ব্যবহার উপযোগী হবে। এছাড়াও কদমতলী বাস টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরিত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
আগামীর পরিকল্পনা: যানজট নিরসনের জন্য সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণ এবং এই মহানগরীর উপযোগী নিত্য নতুন ব্যবস্থা চালু করা। বিশেষ করে টাউন বাস, প্রাইভেট গাড়ির আধিক্য কমানোর লক্ষ্যে স্কুলভিত্তিক বাস চালুর পাশাপাশি রাস্তা প্রশস্তকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। ট্রাক টার্মিনাল চালু করা এবং কদমতলী বাস টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরিত করার কাজ বাস্তবায়ন করা। এছাড়া হকার ভাইদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অপরিকল্পিতভাবে ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো লালদিঘী মার্কেটকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখানে নতুন সুপরিসর মার্কেট তৈরি করে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে। ইতোমধ্যে হকারদের তালিকাও করা হয়েছে। এতে করে তাদের একটি স্থায়ী ঠিকানা হবে। তারাও পরিবার পরিজন নিয়ে নির্বিষেœ ব্যবসা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এছাড়াও এই মার্কেটে ইতোমধ্যে যারা বরাদ্দ নিয়েছেন তাদেরও জায়গা দেওয়া হবে।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কমছে দূষণ
সঠিক এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর নগর উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিলো আমাদের। তরল বর্জ্য, ক্লিনিক্যাল ও মেডিকেল বর্জ্য আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাম্পিং অটোক্ল্যাপ পদ্ধতি চালু করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রিজম বাংলাদেশের সাথে সিলেট সিটি করপোরেশনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কাজ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হলে দূষণের মাত্রা আরও অনেক কমে আসবে। ১০০টি ট্রাক এবং ৩০০টির ও অধিক হাতা ভ্যানের মাধ্যমে আমাদের টিম নগর পরিচ্ছন্নতায় প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পয়েন্টে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার ষ্টেশন স্থাপন করে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন ছাড়াও লাল মাটিয়া ডাম্পিং জোনে স্থান সম্প্রসারণ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে করে আবর্জনা রি-সাইক্লিং ব্যবস্থাপনা কাজ চলমান রয়েছে। আবর্জনা সঠিকভাবে পরিষ্কার করার জন্য লোকবল আগের তুলনায় বৃদ্ধি করায় এখন প্রতিদিন প্রায় দ্বিগুণের চাইতেও বেশী আবর্জনা সময়মত অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে।
আগামীর পরিকল্পনা: আবর্জনা যাতে খোলা জায়গায় না রাখা হয় তা নিশ্চিত করার জন্য নগরীর আরও ৫টি স্থানে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করা। তরল বর্জ্য, ক্লিনিক্যাল ও মেডিকেল বর্জ্য আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে অটোক্ল্যাপ পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা।
বস্তিবাসীদের জন্য স্যানিটারি কক্ষ, থাকবে আরও নতুনধারার সুবিধা
নিম্ন আয়ের মানুষ এবং বস্তিবাসী মানুষজন আমাদের মতই মানুষ। আমাদেরই আপনজন। তাদের জন্য ব্র্যাকের সহযোগিতায় নগরীর ১৮টি জনবহুল বস্তিতে তিন কক্ষ বিশিষ্ট আধুনিক এবং স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন সিস্টেমের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কিছু কাজ চলমান। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অন্ধত্ব নিবারণে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন, কৃমি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণসহ স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ছোঁয়াচে রোগ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বস্তিতে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। এছাড়াও বেওয়ারিশ লাশ দাফনসহ সিটি করপোরেশনের মানবিক দায়িত্বের প্রভূত উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। বিনোদিনী দাতব্য চিকিৎসালয়ের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
আগামীর পরিকল্পনা: ১৮টি স্যানিটারি কক্ষ নির্মাণ কার্যক্রমকে পর্যায়ক্রমে নগরীর প্রতিটি বস্তিতে বাস্তবায়ন করা। বস্তিবাসীদের চিকিৎসা সেবা, তাদের জন্য স্বাবলম্বী হওয়ার কর্মসূচী চালুর জন্য সরকারী ও বেসরকারি, প্রয়োজনে বিদেশী দাতাদের সাহায্য নিয়ে ‘বস্তি বা গরীব কল্যাণ ফান্ড গঠন’ করা। বিগত মেয়াদে না হলেও আগামী মেয়াদে শুধুমাত্র বস্তিবাসীদের জন্য বিশেষ এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা। বস্তিবাসী নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ, বিউটি পার্লার প্রশিক্ষণ সহ তাদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য ‘মোবাইল ট্রেনিং সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা
‘স্বাস্থ্য সেবা মানুষের মৌলিক অধিকার’ এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে তিনি মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এনজিও সীমান্তিক এর সহযোগিতায় ৫টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে নগরবাসী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও মা ও শিশুদের ১০টি প্রধান রোগের প্রতিষেধক টিকাদান, স্বাস্থ্য সনদ বিতরণ, জলাতঙ্ক রোগীদের ভ্যাকসিন প্রদান, স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য এইচ আই এম এস সিস্টেম চালু করা এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে সিলেট নগরীর কোন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে বিনামূল্যে জন্ম নিবন্ধনের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
একটি শিক্ষিত যুক্তি নির্ভর প্রজন্মই পারে আমাদের এই শহরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছে দিতে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আমরা যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ সিটির সাথে টুইনলিংক স্থাপন করে প্রতিবছর সিলেটের শিক্ষকরা ইউকেতে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ইউকের শিক্ষকরা সিলেটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। যা প্রতিবছর নিয়মিতভাবে চলছে। ‘কানেকটিং ক্লাসরুম’ নামের এই প্রজেক্টের সুফল হিসেবে সিলেটের বিদ্যালয়ের সাথে ইউকের বিদ্যালয়ের ব্রিজও তৈরি হয়েছে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে ভোলানন্দ নৈশ বিদ্যালয় এবং বর্ণমালা বিদ্যালয় সিটি করপোরেশনের পরিচালনায় ছিল। আমরা স্বল্প সময়ে আখালিয়ার বীরেশ চন্দ্র হাই স্কুল, মির্জাজাঙ্গাল জুনিয়র হাই স্কুল এবং চারাদিঘীরপার মজলিস আমিন সিটি বেবী কেয়ার একাডেমীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এগুলোতে যথারীতি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে চলছে। এছাড়াও চারাদিঘীরপার বেবীকেয়ার একাডেমীর পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।
আগামীর পরিকল্পনা: বস্তিবাসীর চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির জন্য স্যাটেলাইট ক্লিনিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। তাদের সন্তানদের জন্য হেলথ কার্ডের ব্যবস্থা করা এবং প্রতিবছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়াও নগরীতে ২৫ শয্যাবিশিস্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু করা, যার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুলের সংখ্যা ও কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সাথে কানেকটিং ক্লাসরুম কার্যক্রম চালু করার প্রয়াস গ্রহণ করা।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ
সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কুইটোক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রতিদিন ৫ কোটি লিটার পানি নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও পানি সরবরাহ বৃদ্ধি করতে আমরা উৎপাদক নলকূপের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন ৪৫ টি নলকূপ আছে, ২০১৩ সালে যেখানে উৎপাদক নলকূপের সংখ্যা ছিল ৩০টি। জরুরী ভিত্তিতে পানি সরবরাহের জন্য ৪০০০ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি পানিবাহী গাড়ী ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়াও পানির গুণগত মান ও বিশুদ্ধতা বজায় থাকছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য আমরা ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছি।
আগামীর পরিকল্পনা: ক্রমবর্ধমান এই নগরীতে পানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ কল্পে নগরীর বাইরে সারি নদীতে ৫ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৬শ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এ প্রকল্পটি বর্তমানে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে।
‘ড্রিম টিম’-এ শিক্ষিত বেকারদের চাকরির সুযোগ
আমি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে একটি ড্রিম টিম গঠন করব। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্পে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীকে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হবে। এই ড্রিম টিমের সদস্যরা সিলেট সিটি করপোরেশনকে নতুন যুগের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করবেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এই ড্রিম টিমে কাজ করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি নিজের নগরীর উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। একই সাথে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনকে সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে এবং সিলেটকে তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সিলেট গড়ার কাজে এই ড্রিম টিম গবেষণা কর্মও পরিচালনা করবে।
নারীর জন্য পৃথক ইন্সটিটিউট, থাকবে টাউন বাস
নারীদের জন্য আলাদা একটি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আইসিটি ভবনের পুরো একটি অংশে গড়ে তোলা হবে এই ইন্সটিটিউট। এখানে ঢাকা থেকে আইসিটি সেক্টরের এক্সপার্টদের নিয়ে এসে নারীদের আইটি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে স্বাবলম্বী করা হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে চাকরির সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হবে। এছাড়াও নারীদের জন্য আলাদা টাউন বাস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিশ্বব্যাপী আউটসোর্সিংয়ের যে মার্কেট সেখানে তারা যাতে কাজ করতে পারে সেভাবে তাদের যোগ্য করে গড়ে তোলা। কর্মজীবী নারীদের সুবিধার জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
লার্নিং রিসোর্স সেন্টার
মহানগরবাসীকে নিরবিচ্ছিন্ন তথ্য প্রযুক্তি সেবা নিশ্চিত করার জন্য নগরীতে একটি লার্নিং রিসোর্স সেন্টার চালু করা হবে। এতে থাকবে ই-লাইব্রেরী, থাকবে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ওয়াইফাই সুবিধা, থাকবে কফিশপসহ তথ্য প্রযুক্তির সেবার ক্ষেত্রে নানারকম সুবিধা। শিক্ষিত ও মেধাবীরা যাতে এই লার্নিং রিসোর্স সেন্টারে এসে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ, ক্রেডিট ট্রান্সফার ইত্যাদি বিষয়ে যাবতীয় তথ্য পেতে পারে সেজন্য ইনফরমেশন ডেস্ক স্থাপন করা। এছাড়াও ওয়ার্ড ভিত্তিক ক্লাব পাঠাগার এবং ফরেন ল্যাংগুয়েজ কোর্স চালু করা।
পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ সুরমার জন্য থাকবে ‘বিশেষ নজর’
দীর্ঘদিন থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার হয়েছিল। আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর এখানে দক্ষিণ সুরমায় প্রথমবারের মতো পানি সরবরাহ লাইন চালু করে দক্ষিণ সুরমাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছেন। এছাড়াও কদমতলী বাস টার্মিনালের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, প্রধান প্রধান সড়কের ডিভাইডার স্থাপন করে সড়ক প্রশস্তকরণ, ছড়া ও খাল উদ্ধারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের ক্ষেত্রে গতি সঞ্চার করেছিলেন। কিন্তু স্বল্প সময়ের কারণে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবার নির্বাচিত হলে অন্যান্য ওয়ার্ডের পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমার এই তিনটি ওয়ার্ডে অগ্রাধিকার ভিত্তিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা নিরসনে মনোযোগী হবেন।
আগামীর সিলেট গড়তে প্রয়োজন ‘দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা’
স্বল্প ও মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকটা সহজ হলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেক কিছুর উপর নির্ভরশীল। অথচ ‘আগামীর সিলেট’ কিংবা আজ থেকে ৩০ বছর কিংবা ৫০ বছর পর আমরা কিভাবে সিলেট নগরীকে দেখতে চাই, তার চিন্তাভাবনা শুরু করা জরুরী। দৈনন্দিন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিলেট সিটি
করপোরেশনকে সম্প্রসারণ করে আগামী প্রজন্মের সিলেট গড়ার ক্ষেত্রেও আমাদের মনোযোগী হতে হবে। সবাই মিলে পরিকল্পনামাফিক কাজ করলে ‘নতুন সিলেট’ গড়া খুবই সম্ভব।
এই ‘নতুন সিলেট’ হবে পরিচ্ছন্ন।
এই ‘নতুন সিলেট’-এ থাকবে না কোন যানজট।
এই ‘নতুন সিলেট’-এ থাকবে মেট্রোরেল কিংবা টিউব (আন্ডারগ্রাউন্ড রেল)।
থাকবে না তারের জঞ্জাল। তার যাবে আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়ে।
থাকবে খোলা উদ্যান। থাকবে বহুতল বিশিষ্ট পার্কিং ভবন।
মার্কেটে মার্কেটে হেটে হেটে শপিং করবেন নাগরিকরা, পাশাপাশি থাকবেন বিদেশী পর্যটকরা। থাকবে ‘সিলেট টাওয়ার’-উঁচুতম এই স্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হবে অন্যরকম এক আবহ, যেখানে উপস্থাপিত হবে সিলেটের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি। সিলেট টাওয়ার-এর উপর দাঁড়িয়ে থেকে পর্যটকরা শুধু সিলেটের উঁচু নিচু টিলা আর সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখেই মুগ্ধ হবেন না, তাদের জন্য সেখানেই থাকবে এক ‘টুকরো মিনি
সিলেট’।
এই ‘নতুন সিলেট’-কোন অলীক স্বপ্ন নয়। এই ‘নতুন সিলেট’ গড়া খুবই সম্ভব। প্রয়োজন সঠিক সুন্দর পরিকল্পনা-সরকারের সদিচ্ছা, সবার আন্তরিকতা-এবং ত্যাগের মানসিকতা। প্রয়োজন একটি ‘ড্রিম টিম’। যেই টিম থাকবে লোভ লালসার ঊর্ধ্বে-বাধা আসবে তারপরও এই ড্রিম ইস্পাত কঠিন মনোভাব নিয়ে কাজ করবে।
রাজস্ব বৃদ্ধিতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ
আমি দায়িত্ব নেয়ার পূর্ববর্তী বছরে অর্থাৎ ২০১২-১৩ অর্থ বছরে সিলেট সিটি করপোরেশনে সর্বমোট আয় ছিল ১৭ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। মাত্র ১ বছরের ব্যবধানে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে আমরা তা প্রায় দ্বিগুণ করে ৩৩ কোটি ২১ লক্ষ টাকায় উন্নীত করেছি। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এই আয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে সিলেট সিটি করপোরেশনের আভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধিতে আরও নিত্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করব। এছাড়াও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডকে বেগবান করার জন্য বিভিন্ন ইভেন্ট চালু করব।
ইশতেহার পাঠ শেষে মেয়র থাকাকালীন সময়ে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন আরিফুল হক চৌধুরী।
আপনার মন্তব্য