নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০৫

ইন্টারনেটে আমাকে নাস্তিক হিসেবে প্রচার চালানো হচ্ছে: জাফর ইকবাল

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল অভিযোগ করে বলেছেন ইন্টারনেটে তাকে নাস্তিক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তার নিজের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়জুলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন এ শিক্ষাবিদ। তবে যারা ফয়জুলকে ভুল বুঝিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) ফয়জুল সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জাফর ইকবাল হত্যা চেষ্টা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্র দাখিলের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন জাফর ইকবাল।

তিনি বলেন, আমি ক্ষমা করে দিলেও আইন আইনের গতিতে চলবে।

জাফর ইকবাল বলেন, পুলিশের আন্তরিকতার কারণেই এই অভিযোগ পত্র দ্রুত দেয়া সম্ভব হয়েছে। আমার উপর হামলা চালানোর জন্যই ইন্টারনেটে আমাকে নাস্তিক হিসেবে প্রচার চালানো হচ্ছে, নাস্তিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

জাফর ইকবাল বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলি তাই স্বাধীনতার বিরোধীরা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এসময় তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, অনেক লেখা লিখেছি, কোথাও কেউ প্রমাণ করতে পারবেনা নিজের বা অন্য কোন ধর্মের প্রতি আঘাত করেছি।

জনপ্রিয় এই লেখক বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। আর এই স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিই জামায়াত শব্দ বাদ দিয়ে ইসলাম শব্দটুকু ব্যাবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২ মার্চ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইইই ফেস্টিভ্যালে’ জাফর ইকবালকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথার পেছন দিকে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ফয়জুল।

এ ঘটনায় শাবিপ্রবির রেজিস্টার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন জালালাবাদ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

বুধবার (২৫ জুলাই) সিলেট মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ জানিয়েছিলেন, ওয়াজ শুনে জিহাদে প্রভাবিত হয় লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুল হাসান। এছাড়া কিছু উগ্রবাদী বই পড়েও সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।

সেসময় তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ফয়জুলের বন্ধুর দেওয়া একটি মেমোরি কার্ডে জসিম উদ্দিন রাহমানী, তামিম উদ্দিন আদনানী এবং ওলিপুরী হুজুরের ওয়াজ শুনে ফয়জুল জিহাদের ব্যাপারে প্রভাবিত হয়। এছাড়া জসিম উদ্দিন রাহমানীর লেখা ‘উন্মুক্ত তরবারি’ পড়ে এবং তিতুমির মিডিয়ার ভিডিও দেখে সে ধারণা করে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নাস্তিক।

এছাড়া দ্ওায়াহ-ইলাল্লাহ নামক ওয়েবসাইটে সে (ফয়জুল) জাফর ইকবালের ‘ভুতের বাচ্চা সোলায়মান’ বইয়ের ছবি দেখে এবং সেখানে বিভিন্ন কমেন্ট থেকে ধারণা নবী সোলায়মান (রা.) কে কটাক্ষ করে বইটি লেখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি জানান, এক বছর আগে সে জাফর ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে লক্ষ্যে নগরীর আল হামরা মার্কেটের নিচতলার একটি দোকান থেকে ছুরি কিনে সুযোগ খুঁজতে থাকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত