২৭ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫০
সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী, গরীব দুঃখে মানুষের বন্ধু, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, এলাকার উন্নয়নে অন্তঃপ্রাণ- প্রায় মিনিটখানেক এমন নানা বিশেষণ বলার পর তাঁর নাম উচ্চারণ করা হলো। তিনি সিলেট সিটি নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদপ্রার্থী। তাঁর নানা গুণাবলির কথা বলে মাইকিং করে ভোট প্রার্থণা করা হচ্ছে এলাকায়। বৃহস্পতিবার নগরীর আখালিয়া এলাকায় গিয়ে শোনা যায় এই কাউন্সিলর প্রার্থীর এমন প্রচারমূলক মাইকিং।
কেবল এই এক প্রার্থীই নন সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ৭ মেয়র প্রার্থী (এদের মধ্যে বদরুজ্জামান সেলিম বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হককে সমর্থন জানিয়ে প্রচারণা বন্ধ রেখেছেন) ও পুরুষ ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রায় সকলেই নিজেদের নামের পূর্বে মানবিক প্রায় সকল গুণাবলির বিশেষণ যুক্ত করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
চলছে গানে গানেও প্রচারণা। কেউ আবার রেকর্ড করা টেপ রিকশা-অটোরিকশার মাধ্যমে বাজিয়ে চলছেন নগরজুড়ে। আর সিলেটের আকাশ তো এখন পোস্টারের দখলে। মাথা তুললেই প্রার্থীদের পোস্টার। প্রার্থীদের বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেছে এখন পুরো নগরী। শঙ্খ ঘোষের কবিতার মতো- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’।
আগামী ৩০ জুলাই এই সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা বেছে নেবেন নিজেদের জনপ্রতিনিধি। ভোটারদের মন জয় করতে আত্মপ্রচারে ব্যস্ত সকল প্রার্থীই।
প্রার্থীদের এই বিজ্ঞাপন আর বিশেষণের বাহার প্রসঙ্গে সংক্ষুব্দ নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম বলেন, নির্বাচন এলেই আমরা একদল দেবদূতের দেখা পাই। সবসময় যিনি সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট করেন তিনিও তখন সমাজসেবী হয়ে যান। জীবনে যিনি কাউকে এক ব্যাগ রক্তও দেননি তিনিও জনদরদী হিসেবে তখন নিজেকে দাবি করেন। এইসব মৌসুমী দেবদূতদের কাছে জানতে চাওয়া উচিত তিনি জীবনে মানবসেবা, সমাজসেবায় কি করেছেন।
তিনি বলেন, জনগন এখন অনেক সচেতন। কেবর বাহারি প্রচারণায় তারা ভুলবেন না। যোগ্য লোককেই তারা খুঁজে বের করবেন।
প্রচার প্রচারণায় সবচেয়ে এগিয়ে মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। আরিফুল হক গত মেয়াদে নগরীতে নিজের উন্নয়ন আর বদরউদ্দিন কামরান বর্তমান সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে ভোট চাইছেন। প্রধান সড়কগুলো তো বটেই নগরী ওলি গলির সড়কেও ঝুলে আছে এই দুজনের পোস্টার। বৃষ্টির মৌসুমে নির্বাচন হওয়ায় এই দু’জনসহ প্রায় সকল প্রার্থীই পলিথিনে মোড়িয়ে পোস্টার টানিয়েছেন নগরীতে।
সকল প্রার্থীর পোস্টারেই শোভা যাচ্ছে তাদের নিজের ও প্রতীকের ছবি। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেবল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান। তিনি পোস্টারে ছবি ব্যবহার করেননি।
এ ব্যাপারে মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, আমার দল পোস্টারে ছবি ব্যবহারকে সমর্থন করে না। এটি ইসলাম সম্মত নয়। তাই ছবি ব্যবহার করিনি।
ছবি না থাকলে ভোটাররা চিনবে কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সব ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের সাথে পরিচিত হতে চেষ্টা করছি।
নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে দুপুর দুইটা থেকে শুরু হয় প্রার্থীদের প্রচারণামূলক মাইকিং। মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে এবার অনেকটা পরিবর্তন এসেছে।
আগে প্রতীক আর ব্যক্তির নামে স্লোগান দিয়ে দিয়ে মাইকিং করা হলেও এবার গানে গানে প্রচার চালানোর প্রবণতা দেখা গেছে।
পোস্টারে ছবি ব্যবহার না করলেও মেয়র প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রচারও গানে গানে করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় জিন্দাবাজার এলাকায় ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রচারণামূলক একটি অটোরিকশা থেকে বাজতে শোনা যায়- ‘এবার যেখানে সেখানে ভোট দেবো না রে...’।
কেউ কেউ আবার আগেই ভালো শিল্পী বা আবৃত্তিশিল্পী দিয়ে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন প্রচারণামূলক বক্তব্য ও গান। এগুলো এখন নগরী ঘুরে ঘুরে বাজানো হচ্ছে।
প্রচারণা ক্ষেত্রে আবার আচরণবিধি লঙ্ঘণেরও অভিযোগ উঠছে অনেকক্ষেত্রে। অতিরিক্ত জনসমাবেশ, জনগনের বিঘ্ন ডিজিটাইল প্রতীক ব্যবহার ও প্রতীকে আলোকসজ্জ্বাসহ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে প্রতিদিনই।
আচরণ না মেনে প্রচারণা চালানোর এই প্রবণতার মধ্যেও দৃষ্টি কেড়েছে সিপিবি-বাসদের মেয়র প্রার্থী আবু জাফরের প্রচারণা। জনসংযোগকালে প্রচারপত্রের ভোটারদের দিকে একটি বাক্সও এগিয়ে দিচ্ছেন তারা। ভোটারদের কাছে ভোটের পাশপাশি আর্থিক সহায়তাও প্রার্থণা করছেন। ‘একটি ভোট একটি নোট’ স্লোগানের এই প্রচরণায় সাড়া দিয়ে আর্থিক সহায়তাও করছেন অনেকে।
আপনার মন্তব্য