নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই, ২০১৮ ০১:৩০

প্রচারণায় সরব প্রবাসীরাও

‘লন্ডন থেকে আমার শ্যালক এসেছেন। আজকে আমেরিকা থেকে আমার দুই ভাই দেশে এসেছেন আমার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য’- বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন প্রদানের ঘোষণা দেওয়া সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানিয়েছিলেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম।

আরিফকে সমর্থন দিয়ে দেয়ায় সেলিমের প্রচারণায় আর অংশ নিতে পারেননি তাঁর প্রবাসী স্বজনরা। তবে অন্য প্রার্থীদের পক্ষে বেশ কিছুসংখ্যক প্রবাসী প্রতিদিনই নগরজুড়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রায় সব মেয়র ও অনেক কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষেই প্রচার চালাতে দেশে এসেছেন তাদের প্রবাসী স্বজন ও দলীয় নেতারা। নিজেদের আত্মীয় স্বজন ও অনুসারীদের ভোট পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নিয়ে আসতে চেষ্টা চালাচ্ছেন এই প্রবাসীরা। নিজেদের প্রার্থীদের আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করছেন অনেকে। আবার সামনেই জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় সে নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক অনেক প্রবাসী নেতাই সিটি নির্বাচনে নিজেদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জোরেশোরেই মাঠে নেমেছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটার ও দলের কাছে নিজেদের ব্যাপারে জানান দিওতে চাচ্ছেন তাঁরা।

সিলেটে প্রবাসীবহুল এলাকা। বিশেষত যুক্তরাজ্যের সাথে সিলেটের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রায় ৮০ শতাংশই সিলেটের। এখানকার অর্থনীতিও অনেকটা যুক্তরাজ্য নির্ভর। ফলে দেশে অবস্থানরত আত্মীয় স্বজনদের উপর প্রবাসীদের রয়েছে বড় ধরণের প্রভাব। একারণে নির্বাচন এলে প্রার্থীরা ধর্না দেন প্রবাসীদের কাছে। অনেকের নির্বাচনী ব্যয়ে একটা অংশও আসে প্রবাসীদের কাছ থেকে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় ও বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনের সময়ও সেখানকার অনেক প্রার্থীরা সিলেটে এসে প্রচারণা চালান। বিশেষত সেখানকার বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর প্রার্থীরা সিলেট এসে প্রচারণা চালান। আর সিলেটে নির্বাচন হলেও পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেশে ছুটে আসেন প্রবাসীরা। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি। ইতোমধ্যে শতাধিক প্রবাসী দেশে এসে মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষেও প্রচারণা চালাচ্ছেন অনেক প্রবাসী।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তাদের মন জয়েও দুই দলেরই অনেক প্রবাসী নেতা দেশে এসে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। দলীয় প্রতীকে সিটি নির্বাচন হওয়ায় এবার প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।

নির্বাচনে প্রবাসীদের প্রচারণা প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ বলেন, সিলেটের নির্বাচনে প্রবাসীরা সবসময়ই একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা প্রবাসে থাকলেও দেশের রাজনীতির ব্যাপারে অনেকে খুবই আগ্রহী। নির্বাচনী মৌসুমে তারা নিজেদের আগ্রহেই সম্পৃক্ত হন। অনেকে আর্থিক সহযোগিতাও করেন।

ফারুক মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক প্রবাসী নেতাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগামী। এই সিটি নির্বাচনে তাদের জোরালো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা দল ও ভোটারদের কাছে নিজেদের জানান দিতে চাচ্ছেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের বিভিন্ন আসন থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অর্ধ ডজন নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। সিটি নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই দেশে এসে নগরজুড়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন তারা। প্রচারণায় আওয়ামী লীগের প্রবাসী মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই এগিয়ে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্য নয় বরং দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতেই আমি দেশে এসেছি।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ প্রবাসীরই সিলেট নগর এলাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। ফলে এ নির্বাচনে প্রবাসীদের একটি বড় ভূমিকা থাকবে।

এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থনে দেশে এসেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু। তিনি বলেন, আমরা সবাই সিলেটের উন্নয়ন চাই। এই টানেই নির্বাচনের সময় সিলেট আসি। আমরা চাই, সিলেটের লন্ডনের চেয়েও সুন্দর শহর হবে। যারা মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন তারা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন।

তিনি বলেন, প্রবাসী তরুণ প্রজন্ম দেশের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারা ছুটি কাটাতে বিভিন্ন দেশে গেলেও সিলেটে আসে না। যিনি মেয়র নির্বাচিত হবেন তিনি সিলেটকে একটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলে প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রতি আগ্রহী কওে তুলবেন বলে আশা করি।

মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের বলেন, আমার আত্মীয়স্বজনসহ পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই প্রবাসে থাকেন। স্বভাবতই তারা নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে দেশে এসেছেন। প্রবাসী স্বজনদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি আমি হলফনামায়ও উল্লেখ করেছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত