২৮ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৪৪
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ। সোমবার এই সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে। এবার সিলেট সিটির এক কেন্দ্রের দুটি বুথে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দিয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে।
ভোটের ঠিক পূর্ব মূহূর্তে এসে প্রার্থী ও ভোটারদের প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে এই যান্ত্রিক ভোটগ্রহণ পদ্ধতি।
বিএনপি বলছে, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটে ডিজিটাল কারচুপি হবে। আর আওয়ামী লীগের দাবি সময় বাঁচাতে ও দূর্ভোগ কমাতে সবগুলো কেন্দ্রেই ইভিএম ব্যবহার করা প্রয়োজন।
নির্বাচন সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা বলছেন, ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, ইভিএম পদ্ধতিতে কমসময়ে ভোট গ্রহণ ও নির্ভুল গণনা সম্ভব হওয়ায় নির্বাচনী সহিংসতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
এমন আলোচনা আর অভিযোগের মধ্যে, ভোটারদের অবহিত করতে শনিবার নগরীর আম্বরখানা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের দুটি বুথে ইভিএমের মাধ্যমে 'মক ভোটিং' এর আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। কিভাবে ইভিমের মাধ্যমে ভোটপ্রদান করতে হয় এ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয় মক ভোটিংয়ে।
নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের আম্বরখানা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের দুই বুথেই সোমবার ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এই দুটি বুথে পুরুষ ভোটার ২৫৫৬ জন ও নারী ভোটার ১৯৫৭ জন।
স্বল্প সময় ও সহজে ভোট দিতে পারায় ইভিএম নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শনিবার 'মক ভোটিংয়ে' অংশ নেওয়া ভোটাররা।
এই ওয়ার্ডের ভোটার আলমগির হোসেন বলেন, আমি মক ভোটিং এ ভোট দিয়েছি। ভোট দেয়ার ১ ঘন্টা পর আরেক বার ভোট দিতে চাই। দ্বিতীয়বার ভোট প্রদানের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতেই ইভিএম মেশিন আমাকে জানিয়ে দেয় 'আপনার ভোট দেয়া হয়েছে'। ফলে এই পদ্ধতিতে ভোট কারচুপি বা জাল ভোট দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
একই ওয়ার্ডে আরেক ভোটার রহিম উদ্দিন জানান, আমার আঙ্গুলের ছাপ অন্য কারো সাথে মিলবে না। তাই আমার ভোট আমি না দিলে আর কেউ দিতে পারবে না।
ভোটারদের এমন উচ্ছ্বাস সত্ত্বেও ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহন নিয়ে ডিজিটাল কারচুপির আশঙ্কা করেছেন বিএনপি প্রার্থী অরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনকে নানাভাবে প্রবাবিত করা চেষ্ঠা করছে। এরঅংশ হিসেবেই ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একান্তই ইভিএম ব্যবহার করতে চাইলে ২০ নং ওয়ার্ডে এটি ব্যবহারের জন্য আমরা দাবি জানিয়েছিলাম। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা সেখানে ইভিএম পদ্ধতি চালুর আবেদন করি । কিন্তু কশিশন তা আমলে নেন নি।
আরিফ বলেন, ইভিএমের নিয়ন্ত্রন যেহেতু কমিশনের কর্মকর্তারাই করবেন তাই তারা চাইলেই ডিজিটাল কারচুপি করতে পারেন।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, বিএনপি ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় খুশি না। তারা চায় না প্রযুক্তিগত দিকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, তাই সব কিছুতেই ষড়যন্ত্র খোঁজে। ইভিএমে কারচুপির কোন সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেত তিনি।
বিএনপি প্রার্থীর আবেদন প্রসঙ্গে সিলেট সিটি নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বলেন, তিনি ২০ নং ওয়ার্ডে এভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের আবেদন করলেও তা করা সম্ভব নয়। এটি একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটি (সুজন) এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আব্দুল হালিম বলেন, ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। কারণ এতে কারচুপির সুযোগ কম। তবে এই পদ্ধতি সম্পর্কে জনগনকে আরও অবহিত করতে হবে। ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে তাদের ভোট প্রদান করবেন। নগরীর ২৭টি টি ওয়ার্ডের এসব ভোট কেন্দ্রে ৯২৬ টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।
আপনার মন্তব্য