২৮ জুলাই, ২০১৮ ১৯:৫৬
মৌলভীবাজারেরে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে শফাত আলী (১৪) নামের এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার রাতে তাঁকে হাত-পা ও মুখে কস্টেপ মোড়ানো অবস্থায় ধানি জমি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের হামিদ মিয়ার ছেলে শফাত মিয়াকে (১৪) একই গ্রামের বাসিন্দা চাঁন মিয়ার ছেলে লিটন নানা প্রলোভন দেখিয়ে এক সপ্তাহ পূর্বে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। সেখানে কাজ করতে না পেরে শফাত একাই বাড়িতে ফিরে আসে। এর কারণে লিটন সফাতের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ক্ষোভের জের ধরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় মধ্যভাগ বাজার থেকে ফেরার পথে শফাতকে লিটন ও তার সঙ্গীরা অতর্কিতভাবে ধরে নিয়ে মারধর করে শফাতের নানা তরিক মিয়ার বাড়ির পাশে হাত-পা বাঁধা মুখে কস্টেপ মোড়ানো অবস্থায় ধানি জমিতে ফেলে যায়। এ সময় ঐ পথে চলাচলকারী পথচারীরা গোঙ্গানোর শব্দ শুনে তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে শফাতের বাবা হামিদ মিয়া বলেন, একই গ্রামের চাঁন্দু মিয়ার ছেলে লিটনের সাথে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে চট্টগ্রাম যায় শফাত। সেখানে সে কাজ করতে না পারলে বাড়ি চলে আসে। তাদের ফেলে বাড়ি চলে আসার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে লিটন, আরিক, লিটনের মা আবজান বিবি, বোন রেশমা তাকে এরেঙ্গা ধানী জমিতে তার হাত-পা বেঁধে মুখে কস্টেপ পেঁচিয়ে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী ধলাই নদীতে নিয়ে যাওয়ার সময় মানুষের আনাগোনা দেখে তার নানার বাড়ির কাছে ফেলে রেখে যায়। রাত দেড়টায় আহত শফাতকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শফাত মিয়ার পিতা হামিদ মিয়া বাদী শনিবার দুপুরে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল মোকতাদির পিপিএম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মন্তব্য