বানিয়াচং প্রতিনিধি

০৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৪১

বানিয়াচংয়ে সেনা সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকি ছাত্রদল নেতার

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জুয়েল

বানিয়াচংয়ে পরকীয়া প্রেমে বাধা প্রদান করায় এক সেনা সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছাদিরুজ্জামান খান জুসেফ। এই ঘটনায় সেনা সদস্য মিছবাহুজ্জামান খান মুর্শেদ বানিয়াচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অভিযোগকারী মুর্শেদ বানিয়াচং ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের অন্তর্গত মধুখানি মহল্লার মৃত বশিরুজ্জামান খানের পুত্র। তিনি বর্তমানে নন-কমিশন অফিসার হিসেবে সেনা সদরে কর্মরত আছেন।

জেলা মানবাধিকার কমিশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছাদিরুজ্জামান খান জুসেফের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার এই জিডি করেন তিনি।

জিডি থেকে জানা যায়, সেনা সদস্য মিছবাহুজ্জামান ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুয়েত মিশনে যান। সেখানে অবস্থান করার ফলে তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে জুসেফ। তিনি ৪বছর অবস্থান করে দেশে চলে আসার পর বিষয়টি টের পান। এসময় স্ত্রীর শারিরীকভাবেও পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি। নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত ২৬ মার্চ শুক্রবার স্থানীয় একটি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চেকআপ করালে ওই সেন্টারের প্যাথলজিস্ট ডা: আমিরুল ইসলাম ইউরিন ফর প্রেগন্যান্সি টেস্ট “পজিটিভ” বলে রিপোর্ট প্রদান করেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সর্দারসহ মুরুব্বিরা সামাজিকভাবে শেষ করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু জুসেফ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেনা সদস্য মিছবাহুজ্জামানকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। এই হুমকির অডিও রেকর্ড মিছবাহুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইলে সংরক্ষিত রয়েছে বলে সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ছাদিরুজ্জামান খান জুসেফের পরকীয়ার বিষয়টি তার মেয়েরা অবগত আছে। বাড়িতে কেউ না থাকার ফলে হামেশাই তার মেয়েদেরক নির্যাতন করত জুসেফ।

অভিযোগের বিষয়ে ছাদিরুজ্জামান জুসেফের ব্যবহৃত মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জিডির বিষয়টি অভিযোগ আকারে নিয়ে ওসি রাশেদ মোবারক তদন্ত করার জন্য এসআই গোপালকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। জিডির পরের দিন তদন্ত করার জন্য এসআই গোপল দত্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এই ঘটনার পর থেকে ছাদিরুজ্জামান জুসেফ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে।

ব্যক্তিগত জীবনে জুসেফ দুই সন্তানের জনক। তার স্ত্রী হবিগঞ্জের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত