হৃদয় দাশ শুভ, শ্রীমঙ্গল

০৮ মে, ২০১৯ ০০:৪৭

লাউয়াছড়ায় বনের পাশে বসছে মোবাইল টাওয়ার, জীববৈচিত্র্যে হুমকির আশঙ্কা

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই কিলোমিটারের ভিতর ডলুছড়া এলাকায় মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম কোম্পানি টেলিটক। এই টাওয়ার বসানোর ফলে লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা পরিবেশবাদীদের। মোবাইলের টাওয়ারের রেডিয়েশনের কারণে বনের প্রাণীদের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারাও।

এ ব্যাপারে লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব আবুল হাসান বলেন, এমনিতেই লাউয়াছড়া নানান কারণে হুমকির সম্মুখীন, তার উপর যদি এভাবে মোবাইলের টাওয়ার স্থাপন করা হয় তাহলে রেডিয়েশনের প্রভাবে পাখিদের ডিম নষ্ট হবে। প্রাণীদের জীবন যাত্রায়ও প্রভাব পড়বে৷ তাই এই এলাকায় টাওয়ার স্থাপন থেকে টেলিটককে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি৷

ডলুছড়ার অবস্থান লাউয়াছড়া বনের দুই কিলোমিটারের মধ্যে। মঙ্গলবার দুপুরে লাউয়াছড়ার পাশের ডলুছড়া এলাকার গিয়ে দেখা যায়, ১৪ জন শ্রমিক মিলে টাওয়ার তৈরির জন্য মাটি কাটার কাজ করছেন। শ্রমিকরা মাটি কেটে পাশেই জমিয়ে রাখছেন। টাওয়ার তৈরির জন্য আনা হয়েছে বড় বড় রড৷ তবে সেখানে শ্রমিক ছাড়া টেলিটকের কাউকে পাওয়া যায়নি।

টাওয়ার স্থাপন কাজের ঠিকাদার অশোক দেববর্মা মুঠোফোনে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে টেলিটক কোম্পানির টাওয়ারের কাজ চলছে।

সংরক্ষিত বনের পাশেই টাওয়ার বসানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন বিভাগ আমাদের এখন পর্যন্ত কোন আপত্তি জানায়নি। তারা বনের দুই কিলোমিটার বাইরে টাওয়ার বসানোর কথা বলেছেন। সম্প্রতি বিট কর্মকর্তা এসে জায়গা টাওয়ার স্থাপনের জায়গা দেখেও গেছেন।

তবে লাউয়াছড়া বনের বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বন কর্মকর্তার নির্দেশে আমি সরজমিনে সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এসেছি। তারা কাজ বন্ধ রেখেছে। তারা যদি আবার টাওয়ার বসানোর কাজ করে বন বিভাগ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ইকো ট্যুর গাইড ও লাউয়াছড়া পুঞ্জির বাসিন্দা সাজু মারছিয়াং বলেন, লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য আমরা টাওয়ারের কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। এমনিতেই লাউয়াছড়া বনের গাছ কেটে উজাড় করে ফেলা হচ্ছে। জীববৈচিত্র হুমকির মুখে। টাওয়ার বসালে বনের প্রাণি আরও হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, আমরা যারা বনের ভেতরে পুঞ্জিতে থাকি তারা প্রয়োজনে মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক সমস্যায় ভুগবো তবুও প্রকৃতি ধ্বংস করে মোবাইল নেটওয়ার্ক চাই না৷

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সহকারী বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) আনিসুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই কিলোমিটারের ভিতরের ভিতরে এমন মোবাইল টাওয়ার বসানোর কোন অনুমতি নেই। কোম্পানির টাওয়ারের রেডিয়েশনের প্রভাবে পাখির ডিম ও বন্যপ্রাণির জীব-বৈচিত্র্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়াও বনে টাওয়ার বসালে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী থাকে। এতে গাছচোর চক্র নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সহজেই বনে অপকর্ম করতে পারে। আমরা এখানে কোন অবস্থাতেই টাওয়ার বসাতে দেবো না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত