জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩২

বিশ্বনাথে ২৬ মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি, চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ

আসছে ৪ অক্টোবর শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার প্রস্তুতিতে সিলেটের বিশ্বনাথের মণ্ডপগুলোতেও প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত এখন শিল্পীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করতে যেমন ব্যস্ত রয়েছেন শিল্পীরা তেমনি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আয়োজকরাও।

দুর্গাপূজায় নাশকতা এড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত বুধবার দুপুরে বিআরডিবি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে উপজেলা প্রশাসন। এরআগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে থানা পুলিশের উদ্যোগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপজেলা জুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

এ বছর ৮ উপজেলায় সার্বজনীন ২১টিসহ ব্যক্তিগত ৫টি মিলিয়ে ২৬টি মণ্ডপে এখন প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কোন কোন মণ্ডপের প্রতিমাগুলোকে যত্নসহকারে রোদে শুকানো হচ্ছে। আবার কোন কোন মণ্ডপের জন্যে প্রতিমা বাইরে থেকে কিনে আনার প্রস্তুতি চলছে। তবে, প্রতিমা তৈরির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বাকি আছে কেবল শিল্পীদের রঙতুলির আঁচড়। আর রঙতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে তৈরি করা প্রতিমার আসল রূপ।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মৌলভী বাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিল্পীরা বিশ্বনাথে এসে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্বনাথ পুরান বাজার, কালিগঞ্জ বাজারের কালিবাড়ি, দিঘলীর শিব ও দুর্গাবাড়ি, বাগিচা বাজারের কালিবাড়ি, বৈরাগী বাজারের বৃন্দাবন জিউর আশ্রমে প্রতিমা তৈরির কাজসহ অন্যান্য কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২৬টি মণ্ডপের অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমায় রঙ দেয়া ছাড়া প্যান্ডেলসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে, এবার ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় ১২টির মণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে অত্যধিক ঝুঁকিতে রয়েছে ৪টি মণ্ডপ। অধিক ঝুঁকিতে থাকা মণ্ডপগুলো হচ্ছে, বিশ্বনাথ পুরান বাজার পূজা উদযাপন পরিষদ, দিঘলী শিব ও দুর্গাবাড়ি মন্দির, কালিগঞ্জ বাজারের কালিবাড়ি মন্দির এবং বৈরাগী বাজারের শ্রীশ্রী বৃন্দাবন জিউর আশ্রম।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দাশ বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, শুধু রঙের কাজ বাকি। প্রশাসনসহ মুসলিমদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বেলন, বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলায় বসবাসরত মুসলিম ভাইদের সহযোগিতায় প্রতিবছরই দুর্গোৎসব সফল হয়, এবারও তাই হবে।

মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিধুন গ্রামের প্রতিমা শিল্পী বিধান আচার্য্য বলেন, তাদের হাতে এখনও সপ্তাহখানেক সময় বাকি আছে। আর রঙ দেওয়া সম্পন্ন করতে মাত্র ২/৩দিন সময় লাগবে। শুক্রবার থেকে রঙ দেওয়া শুরু করা হবে। এ প্রতিবেদককে বলেন, পূজার নিরাপত্তায় থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং সাদা পোষাকেও সর্বত্র পুলিশ মাঠে কাজ করবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত