০৪ জুন, ২০২৬ ০১:৫২
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ও নকল ভিডিও (ডিপফেক) শনাক্ত করার বিশেষ প্রযুক্তি এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করছে ইউটিউব। এখন থেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যে-কোনো ব্যবহারকারী এই সুবিধা ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে নিজের সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে পারবেন।
সম্প্রতি ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তাদের অফিশিয়াল কমিউনিটি পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে। মূলত অনুমতি ছাড়া কারও মুখমণ্ডল ব্যবহার করে তৈরি এআই ভিডিও সহজে অপসারণ করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউটিউবের মুখপাত্র জ্যাক ম্যালন জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন কিংবা পুরোনো—সব কনটেন্ট ক্রিয়েটরই সমান নিরাপত্তা পাবেন। এটি সাধারণ মানুষকেও দারুণভাবে সাহায্য করবে। কেউ যদি হুট করে দেখেন যে তার চেহারা কোনো বিভ্রান্তিকর এআই ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে, তবে তিনি খুব সহজে তা শনাক্ত করতে পারবেন। এর ফলে ক্রিয়েটরদের অনুমতি ছাড়া তাদের চেহারা ব্যবহার করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করাও বন্ধ হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইউটিউব প্রথম এই প্রযুক্তির প্রিভিউ বা প্রাথমিক ঝলক দেখিয়েছিল এবং ২০২৫ সালের শেষদিকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। শুরুতে এটি কেবল ‘ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম’-এর সদস্যদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের এই সুবিধার আওতায় আনা হয়। আর এবার সব সাধারণ ব্যবহারকারীর সুরক্ষায় টুলটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিল প্ল্যাটফর্মটি।
যেভাবে ব্যবহার করবেন এই সুবিধা:
নতুন এই ‘লাইকনেস’ সুবিধাটি ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হবে:
স্টুডিওতে প্রবেশ: প্রথমে কম্পিউটার থেকে ‘ইউটিউব স্টুডিও’তে (YouTube Studio) প্রবেশ করতে হবে।
অপশন নির্বাচন: সেখানে ‘কনটেন্ট ডিটেকশন’ (Content Detection) অপশনের অধীনে ‘লাইকনেস’ (Likeness) সুবিধাটি পাওয়া যাবে।
কোড স্ক্যান: এরপর স্ক্রিনে আসা একটি কিউআর (QR) কোড মুঠোফোন দিয়ে স্ক্যান করতে হবে।
ভেরিফিকেশন: পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যবহারকারীর একটি সরকারি পরিচয়পত্র (Id Card) এবং নিজের একটি লাইভ সেলফি ভিডিও জমা দিয়ে ভেরিফিকেশন শেষ করতে হবে।
এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ইউটিউবের সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া সব ভিডিও স্ক্যান করা শুরু করবে। যদি অন্য কারও ভিডিওতে ব্যবহারকারীর চেহারার মিল পাওয়া যায়, তবে সেই ভিডিওগুলোর একটি তালিকা নির্দিষ্ট ট্যাবে জমা হবে। ব্যবহারকারী তখন ভিডিওটি নিজে পর্যালোচনা করে সেটি মুছে ফেলার (Removal Request) অনুরোধ জানাতে পারবেন। চেহারার পাশাপাশি ভিডিওতে কণ্ঠস্বর নকল করা হয়েছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করবে ইউটিউব।
তবে এই টুলটি আপাতত শুধু কণ্ঠস্বরের ওপর ভিত্তি করে এককভাবে ডিপফেক শনাক্ত করতে পারে না।
আপনার মন্তব্য